| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

নতুন আলুর দাম নিয়ে চিন্তিত কৃষক

  • আপডেট টাইম: 04-12-2025 ইং
  • 161552 বার পঠিত
নতুন আলুর দাম নিয়ে চিন্তিত কৃষক

নতুন আলু উঠতে শুরু করলেও জমিতে ২৭  টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি হওয়ায় আলুর ন্যায্য মূল্য পাওয়া নিয়ে শংকিত হয়ে পড়েছে আলু চাষিরা।  নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ ও সদর উপজেলা য় আগাম জাতের আলু ক্ষেত থেকে উঠতে শুরু করেছে। আগাম আলু উত্তোলন করে ক্ষেতেই ২৭ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন চাষীরা। 

বাজারে এখন ও পুরাতন আলুতে ছয়লাব, খোলা বাজারে  প্রকার ভেদে পুরাতন আলু ১৬ থেকে ১৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আলুর দাম না পাওয়ায় আলুর হিমাগার গুল থেকে আলু বের করে বাজারে বিক্রি করেনি কৃষকেরা। 

আলু চাষিরা জানিয়েছেন, বড় অংকের লোকসান গুনেও প্রায় সমান তালে গতবারের মত এবার ও আগাম আলু চাষ করেছে সবাই। 

এক সপ্তাহের মধ্যে পুরোদমে বাজারে নতুন আলু উঠবে। ভাল ফলন ও বাজার মূল্য ভালো পেলে অতীতের লোকসান কাটিয়ে লাভের মুখ দেখার আশায় বুক বেধে ছিলাম।  

কিশোরগঞ্জ উপজেলার কেশবা গ্রামের কৃষক আকবর আলী জানান, সেভেন জাতের আগাম আলু উত্তোলন করেছি,  ৫৯ শতক জমিতে ৫৫ দিনের আলু তুলে ৩৫০ কেজি আলু পেয়েছি আলুর সাইজ ছোট হওয়ার কারণে ২৭ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হয়েছে। এই সাইজ আগাম আলু গত বছর ৬০ টাকার উপরে বিক্রি করেছি। 

পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের জাহেদুল ইসলাম জানান, দুর্গা পুজার আগে প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় আলু কর্দমাক্ত হয়ে বেশ কিছু গাছে মড়ক ধরে। বাজারে পুরাতন আলুর দাম কম হওয়ায় নতুন আলুর দামও কম পাইছি।  আগাম আলু চাষের জন্য আবহাওয়া এবছর অনুকুল তাই আশানুরূপ ফলন ও কোন ঝামেলা ছাড়া বাজারজাত করতে পারলে হয়তো কিছুটা ঘাটতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। 


আমন ধান ক্ষেত থেকে পুরাদমে কাটা না হলেও  ওই জমিতেই বীজ আলু রোপণের প্রস্তুতি নিয়ে ফেলছেন অনেকেই। কৃষকদের ঘরে ঘরে আলু বীজ শোভা পাচ্ছে। ১৫ থেকে ২০ দিনের গঁজানো বীজ রোপণ করলে তা ৫০ দিনেই হিমাগারে বীজের জন্য রাখতে পারবেন বলে কৃষকরা জানান।

কিশোরগঞ্জের নিতাই মুশরুত পানিয়ালপুকুর এলাকার কৃষক আল-আমিন ৭০ বিঘা জমিতে আগাম জাতের আলু রোপণ করেছেন। তার আলুর বয়স ৩৫ থেকে ৫০ দিন হয়েছে। বাজার দর নিয়ে কপালে চিন্তার ভাঁজ ও শঙ্কা থাকলেও লাভের আশায় তিনি স্বপ্ন বুনছেন।

লোকসানের মুখে থাকা কিশোরগঞ্জ যদুমনি এলাকার আলু চাষী লুৎফর রহমান লুতু মিয়া বলেন, হিমাগারে প্রায় ছয় হাজার বস্তা আলু রেখেছিলাম। প্রায় ৪০ লাখ টাকা লোকসান গুনেছি তবুও লাভের আশায় এ বছর ১৩ বিঘা উঁচু জমিতে আগাম জাতের আলু রোপণ করেছি। এবারও ৩০ বিঘা জমিতে বীজ আলু চাষাবাদ করবো। ফলন ও দাম পেলে লোকসান উঠে লাভের মুখ দেখার আশা করছি।

কিশোরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার লোকমান আলম বলেন, এ বছর উপজেলায় ৬ হাজার ৬শ’ ৬০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে আগাম আলুই আবাদ হয়েছে ৩৪৩০ হেক্টর জমিতে। 

মৌসুমের শুরুতে বাজারে নতুন আলুর চাহিদা বেশি থাকায় এখানকার কৃষকরা বেশি দাম পাওয়ায় লাভবান হন। এছাড়া কিশোরগঞ্জ উপজেলার কৃষকরা স্থানীয় সেভেন জাতের আগাম আলু ৫৫ থেকে ৬০ দিন বয়সে উত্তোলন শুরু করেন। অল্প সময়ে এ ফসলে কৃষকরা যা লাভ করেন অন্য কোন ফসলে তা আসে না। নতুন আলুর চাহিদা ব্যাপক থাকে।  এর ই মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা আসা শুরু করেছে। আগাম আলুতে কৃষকরা লাভবান হবেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর ১ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন আলু উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নতুন ঠিকানা - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪