বড়দিন উপলক্ষ্যে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এই শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
অনুষ্ঠানে খ্রিস্টান ধর্মের নেতারা তাদের বক্তব্যে বিশ্বজুড়ে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সুনাম এবং দেশের অর্থনীতি ও সার্বিক পরিস্থিতির উন্নয়নে তার ভূমিকার প্রশংসা করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু আর্চবিশপ বিজয় এন ডি’ক্রুজ তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে যিশু খ্রিস্টকে সার্বজনীন উল্লেখ করে বলেন, যিশু খ্রিস্টের ক্ষমা ও মানবসেবার মহান আদর্শকে সামনে রেখে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষও উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে বড়দিন উদযাপন করছে।
প্রধান উপদেষ্টাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে জনগণ তার ওপর আস্থা রেখেছে এবং তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে সে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তার প্রচেষ্টা সফল হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রধান উপদেষ্টা উপস্থিত সবাইকে বড়দিন ও আসন্ন নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ সমাজের প্রতিবিম্ব। তাদের কর্মকাণ্ড দেখেই সমাজের সার্বিক অবস্থা বোঝা যায়। তিনি একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে, যা গণভোটের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হলে দেশ আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
তিনি জানান, আসন্ন সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে এবং জনগণের রায়ের ভিত্তিতেই পরবর্তী সংসদ সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করবে। এ সময় নির্বাচন ও গণভোট বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বড়দিন উপলক্ষ্যে খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে আড়াই কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান ট্রাস্টের নেতারা। তারা জানান, দেশব্যাপী ৮০০টি চার্চের মধ্যে তিন ধাপে এই অনুদান বিতরণ করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠান শেষে বড়দিন উপলক্ষে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে কেক কাটেন প্রধান উপদেষ্টা। এ সময় ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, ন্যাশনাল ক্রিশ্চিয়ান ফেলোশিপ অব বাংলাদেশের সভাপতি বিশপ ফিলিপ পি অধিকারী, খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি ড. বেনেডিক্ট আলো ডি রোজারিও, জাতীয় চার্চ পরিষদ বাংলাদেশের সভাপতি খ্রিস্টোফার অধিকারীসহ খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।