অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের স্বাধিকার ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। ‘ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ‘ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান’ দিবস উপলক্ষে শুক্রবার দেয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ঐতিহাসিক ছয় দফা আন্দোলন, পরবর্তীতে ১১ দফা আন্দোলন এবং ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়েই মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং এর মাধ্যমে বাঙালি জাতি অর্জন করে স্বাধীনতা।
তিনি বলেন, তৎকালীন স্বৈরাচারী শাসন ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ১৯৬৯ সালের পুরো জানুয়ারি মাসজুড়ে আন্দোলনে উত্তাল ছিল দেশ। ছাত্র-জনতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ২৪ জানুয়ারি সেই আন্দোলন রূপ নেয় এক ব্যাপক গণবিস্ফোরণে।
ড. ইউনূস বলেন, সেদিন সংগ্রামী জনতা সান্ধ্য আইন ভঙ্গ করে মিছিল বের করলে পুলিশের গুলিবর্ষণে ঢাকার নবকুমার ইনস্টিটিউটের নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর রহমান মল্লিক শহীদ হন। একই ঘটনায় শহীদ হন মকবুল, আনোয়ার, রুস্তম, মিলন, আলমগীরসহ আরও অনেকে।
তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামে শহীদদের আত্মত্যাগ দেশের তরুণ সমাজকে যুগিয়েছে অফুরন্ত সাহস ও অনুপ্রেরণা।
বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং বলেন, এই ঐতিহাসিক দিনের মূল্যবোধ ধারণ করে সবাইকে একত্রিত হয়ে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
সবশেষে তিনি দেশের মুক্তি সংগ্রামের সব শহীদের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন।