অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের সাহিত্যকর্মে মানবিক চেতনা, মুক্তবুদ্ধি ও সৃজনশীলতার যে দীপ্ত প্রকাশ ঘটেছে, তা আজও আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায়।
‘মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ২০২তম জন্মবার্ষিকী’ উপলক্ষে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম দিকপাল মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ২০২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ী গ্রামে ২৫ জানুয়ারি মধুসূদন জন্মোৎসব পালিত হবে জেনে তিনি আনন্দিত।
তিনি বলেন, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত এক উজ্জ্বল নাম। তাঁর সাহিত্যকর্ম ও সৃজনশীলতা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে আধুনিকতার নতুন দিশা দেখিয়েছে। এই মহান সাহিত্যিককে স্মরণ করার এ আয়োজন নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এ আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে তিনি শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানান।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তন, মহাকাব্যিক রচনাশৈলী এবং নাট্যসাহিত্যে নতুন ধারা প্রবর্তনের মাধ্যমে মধুসূদন দত্ত বাংলা ভাষাকে বিশ্ব দরবারে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর মহাকাব্য, নাটক ও কাব্যগ্রন্থে মানবিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম এবং মুক্তচিন্তার প্রতিফলন স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। তাঁর সাহিত্যকর্ম আজও আমাদের চিন্তা ও সৃজনশীলতাকে সমৃদ্ধ করছে।
তিনি বলেন, মধুসূদন জন্মোৎসবের আয়োজন নতুন প্রজন্মকে মহাকবির জীবন ও সাহিত্য সম্পর্কে জানার সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং সাহিত্যচর্চায় আগ্রহী করে তুলবে। একই সঙ্গে এটি আমাদের সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষণ ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সবশেষে বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মোৎসব উপলক্ষে আয়োজিত সব অনুষ্ঠানের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।