আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনের দিন সংঘটিত যেকোনো সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করা হবে বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে এক প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্য নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে সহিংস ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উসকানি দেওয়ার শামিল।
অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, নয়াদিল্লিতে দেওয়া ওই বক্তব্যে শেখ হাসিনা প্রকাশ্যে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের পতনের আহবান জানান এবং দলীয় অনুসারী ও সাধারণ জনগণকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ভণ্ডুল করতে সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়াতে উৎসাহিত করেন।
এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় ভারত সরকারের ভূমিকা নিয়েও গভীর বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ঢাকা। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের পরিপন্থি এবং আন্তঃরাষ্ট্র সম্পর্কের প্রচলিত নীতিমালা, সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির পরিপন্থি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এ ঘটনা বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি একটি স্পষ্ট অবমাননা এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের জন্য একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
অন্তর্বর্তী সরকার বলছে, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের এ ধরনের বেপরোয়া উসকানি প্রমাণ করে কেন দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে সরকার বাধ্য হয়েছে। সরকার সতর্ক করে জানায়, আসন্ন নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনের দিন সংঘটিত যেকোনো সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করা হবে এবং এ ধরনের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে সরকার জানায়, দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাকে দেশে ফেরত আনার জন্য একাধিকবার অনুরোধ জানানো হলেও ভারত এখনো সে দায়িত্ব পালন করেনি। বরং নিজ ভূখণ্ডে তাকে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি বলে মনে করছে সরকার।