গত বছরগুলোতে শাসকগোষ্ঠী ও কিছু রাজনৈতিক দল দেশবাসীকে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দলীয় বাণিজ্য ও বিচারহীনতা ছাড়া কিছুই দিতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এসবের অবসান ঘটিয়ে একটি নতুন, বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে চায় জামায়াতে ইসলামী।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোটের উদ্যোগে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, “১৩ তারিখ সূর্য উঠবে নতুন বাংলাদেশকে কাঁধে নিয়ে।”
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহ যদি তাদের দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেন, তবে তাদের দুই হাতের দশ আঙুল থাকবে পরিচ্ছন্ন। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, জামায়াত চাঁদাবাজি করে না, কাউকে করতেও দেবে না; দুর্নীতি করে না, কাউকে করতেও দেবে না। মামলা বাণিজ্যকে তারা ঘৃণা করে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অর্থনীতি ও শাসনব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যাংকের টাকা লুটপাট ও শেয়ারবাজার ধ্বংসের ষড়যন্ত্র সহ্য করা হবে না। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে এনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও সংশ্লিষ্ট এলাকার উন্নয়নে ব্যয় করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
বিচার ব্যবস্থার বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে মামু-খালু দেখিয়ে কেউ পার পাবে না। এমনকি প্রধানমন্ত্রী অন্যায় করলে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের জন্য উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা এবং আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার—এই তিনটি বিষয়কে অপরিহার্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন রয়েছে—একটি গণভোট এবং অন্যটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন। গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “‘হ্যাঁ’ মানে আজাদী, ‘না’ মানে গোলামি।”
জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের ১১ দলীয় ঐক্যজোট মনোনীত প্রার্থী ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদের হাতে প্রতীকীভাবে দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন। একই সঙ্গে পটুয়াখালীর চারটি সংসদীয় আসনের জোটপ্রার্থীদের প্রতীক তুলে দিয়ে তাদের বিজয় নিশ্চিত করতে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।
বাউফল উপজেলা আমির মাওলানা মো. ইসহাক মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডাকসুর সাবেক ভিপি আবু সাদেক কায়েম, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলালসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
নির্ধারিত সময়ের আগেই জনসভাস্থল ও আশপাশের এলাকায় বিপুল জনসমাগম ঘটে। সড়ক, অলিগলি ও খোলা মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে মানুষের ঢলে। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা জনসভাটি কাভার করেন।