জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তারা এমন এক দেশ গড়ার জন্য চেষ্টা করছেন যেখানে কোনো মা বা বোন নিরাপত্তাহীনতায় থাকবে না।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
শফিকুর রহমান ভাষণে বলেন, তাঁর সংগঠন দেশের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের যে কণ্ঠস্বর সেটি সবাইকে নিয়ে গড়ে তুলতে চান। নারীদের শুধু ঘরের ভিতরেই নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রের মূলধারায় নেতৃত্বের আসনে দেখতে চান। তিনি নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় সবাইকে একসাথে কাজ করার আহবান জানান।
তিনি জাতির উদ্দেশে বলেন, ‘আজ আমি আপনাদের সামনে কোনো গতানুগতিক রাজনৈতিক ভাষণ দিতে এসেছি না; আজ আমি মনের ভেতরের কিছু কথা বলতে চাই।’
জুলাই মাসের রক্তাক্ত আন্দোলন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণ করে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলন হয়েছে বৈষম্যহীন ও ন্যায্য বাংলাদেশ চাইতে। এই আন্দোলনে বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ, বিশেষ করে তরুণ, মা‑বোন এবং শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী অংশ নিয়েছিল।
শফিকুর রহমান বললেন, ‘আমাদের তরুণরা একটি নতুন বাংলাদেশ চাই বাংলাদেশ ২.০। পরিবর্তনের পথে যেসব বাধা আছে, তা পার করার দায়িত্ব নতুন প্রজন্মের এবং সেই পরিবর্তনের জন্য তারা প্রস্তুত।’
তিনি আরও বলেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতা ও সম্পদের অন্যায় ব্যবহার, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও ভোটাধিকারের অবনতির মতো সমস্যা বিদ্যমান। ফলে তাদের দাবি পরিবর্তন ও মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকারের পুনঃপ্রতিষ্ঠা।
ভাষণে তিনি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে একটি নৈতিক দিক নির্দেশনা’ হিসেবেও উল্লেখ করেন এবং জনগণকে সৎ, দক্ষ ও নিষ্ঠাবান নেতৃত্ব নির্ধারণে জোর দেয়ার আহবান জানান।
তবে অর্জনযোগ্য ব্যাপারগুলো পরিষ্কার করতে তিনি বলেন, ‘‘সততা, ঐক্য, ইনসাফ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থান এসব ক্ষেত্রে ‘হ্যাঁ’ এবং দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ, বেকারত্ব ও চাঁদাবাজির মতো বিষয়গুলোকে ‘না’ বলতে হবে।’’
শফিকুর রহমান আইনশৃঙ্খলা, সাংবাদিক স্বাধীনতা ও নির্বাচনী আচরণ বিধি বাস্তবায়নে সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকারও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রশাসন এবং নিরাপত্তা বাহিনী তাদের দায়িত্ব পালন করছেন এবং সাংবাদিকরা কঠোর পরিশ্রম করছেন, যাদের তিনি প্রশংসা করেন।
ভাষণের শেষ দিকে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও দেশ গঠনের কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে অনুরোধ জানান এবং প্রবাসীদের ভোটাধিকার ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
সমাবেশে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব কোনো উপভোগের বিষয় নয়; এটি আমানত এবং এর যোগ্য পরিচালনা করতে হবে।’
ডা. শফিকুর রহমান পরিষ্কার করেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের ও ১১ দলের সমর্থিত প্রতিনিধিদের পক্ষে ভোট চেয়ে আবেদন জানাবেন।