নিজের দেশকে কোচিং করানোর স্বপ্ন অনেক আগে থেকেই দেখে আসছেন ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী তারকা জিনেদিন জিদান। মাঝে একাধিকবার দিদিয়ের দেশমের জায়গায় তিনি কিলিয়ান এমবাপেদের কোচ হবেন বলে গুঞ্জন উঠলেও তা শেষ পর্যন্ত হয়নি। জিদান ২০২১ সালে রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব ছাড়ার পর ক্লাব ও জাতীয় দল পর্যায়ে বড় বড় প্রস্তাব ফিরিইয়ে দিয়ে অবশেষে ফ্রান্সের কোচ হতে যাচ্ছেন।
আগামী জুন-জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের আসরে ২০১৮ বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ডাগআউট সামলানো শিরোপাজয়ী ফরাসি কিংবদন্তি কোচ দেশম এক সাক্ষাৎকারে সম্প্রতি ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের পর জাতীয় দলের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াবেন জানালে আসন্ন গ্রীষ্মে ফ্রান্সের প্রধান কোচ হবেন জিনেদিন জিদান। এই ফরাসি বিশ্বকাপজয়ী কোচ ২০১২ সাল থেকে সামলাচ্ছেন ফ্রান্সের জাতীয় দল।
ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশনের (এফএফএফ) সঙ্গে ৫৩ বছর বয়সী জিদানের ইতোমধ্যে মৌখিক চুক্তি হয়েছে বলে জানিয়েছে ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘লা প্যারিসিয়ান’। এফএফএফ সভাপতি দিয়ালোর দেওয়ার মতে ফ্রান্সের কোচকে হতে জাতীয়ভাবে সম্মানিত ব্যক্তি হতে হবে, এবং পাশাপাশি ওই দায়িত্বের চাপও তাকে সামলাতে হবে। এটি এমন এক দল যেখানে সবাই পাইলট হতে পারবেন না। সংবাদমাধ্যম লেকিপে জানিয়েছে ইতোমধ্যে দেশমের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে জিদানকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছে ফুটবল ফেডারেশন। জিদানের সম্ভাব্য কোচিং স্টাফ নিয়েও প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। মূলত দেশমের বক্তব্যই ২০২৬ বিশ্বকাপের পর ফ্রান্সের কোচ পদে পরিবর্তনের স্পষ্ট ঘোষণা।
নিজ দেশের কোচ হওয়ার ব্যাপারে অতি-আগ্রহী জিদান দ্বিতীয় দফায় রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হিসেবে মেয়াদ শেষ করেন ২০২১ সালে। সে সময়ে লস ব্লাঙ্কোসরা টানা তিনবার উয়েফা চ্যাম্পিয়স লিগসহ ১১টি ট্রফি জেতে। এ ছাড়া খেলোয়াড়ি জীবনে এই ফরাসি মিডফিল্ডার একবার ব্যালন ডি’অর ও তিনবার ফিফার বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পদক জিতেছিলেন। ১৯৯৮ বিশ্বকাপ জয়ের পর জিদানের অধীনে ২০০৬ আসরে ফ্রান্স রানার্সআপ হয়েছিল।