ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) আরও পাঁচ দিনের সময় দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য থাকলেও সিআইডি তা জমা দিতে ব্যর্থ হয়। পরে সিআইডির পক্ষ থেকে সময়ের আবেদন করা হলে শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম আগামী ২৫ জানুয়ারির মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দেওয়া অভিযোগপত্রে অসন্তোষ জানিয়ে একই আদালতে নারাজি আবেদন দাখিল করেন। আদালত ওই নারাজি আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর মতিঝিলে জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী গণসংযোগে অংশ নেন শহীদ ওসমান হাদি। পরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলযোগে আসা দুর্বৃত্তরা হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিক অস্ত্রোপচারের পর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যা চেষ্টার মামলা দায়ের করেন। হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
গত ৬ জানুয়ারি গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করে। অভিযোগপত্রে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীসহ মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদসহ তার পরিবারের সদস্য, সহযোগী ও পলাতক সহায়তাকারীরা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত। এদের মধ্যে ফয়সাল করিমসহ পাঁচজন এখনো পলাতক রয়েছে।
ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদের দেওয়া অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং বিভিন্ন সময়ে শহীদ ওসমান হাদির দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে—রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।