জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যাযজ্ঞের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার শুরু হয়েছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। অপর দুই সদস্য– বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
প্রথমে দুই আসামির অব্যাহতি চাওয়ার আবেদন খারিজ করা হয়। পরে প্রসিকিউশনের তিনটি অভিযোগ পড়ে শোনানো হয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলার সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।
দুই আসামির মধ্যে গ্রেফতার অবস্থায় আছেন পলক। তাকে সকালেই কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। অপর আসামি জয় আইনি লড়াই করছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলমের মাধ্যমে।
মামলায় আনা তিনটি অভিযোগ হলো:
জয়ের নির্দেশে ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে পলক ফেসবুকে উসকানি দেন। ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ ও আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র বাহিনী হামলা চালায়; ইন্টারনেট বন্ধ করা হয় এবং হত্যায় সহায়তা করা হয়।
উত্তরায় ৩৪ জনের হত্যায় তারা সহায়তা করেছেন।
প্রসিকিউশনের দাবি, এই হামলায় শহীদ হয়েছেন রাসেল, মোসলেহ উদ্দিনসহ ২৮ জন।
মামলার প্রসিকিউশনের দায়ের করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আদালতে ৪ ডিসেম্বর গ্রহণ করা হয়। এরপর ১০ ডিসেম্বর জয়কে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং গ্রেপ্তার থাকায় পলককে একই দিন আদালতে হাজির করা হয়।