চীনের বিপক্ষে আগের ম্যাচে হেরে লড়াকু পারফরম্যান্স দিয়ে যে প্রত্যাশা জাগিয়েছিল বাংলাদেশের মেয়েরা,উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে আজ তা পুরোপুরি ম্লান হয়ে গেছে। সিডনিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার বিধ্বংসী আক্রমণের সামনে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা দাঁড়াতেই পারেনি উল্টো হার মেনেছে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে।
উত্তর কোরিয়ার হয়ে একাই জোড়া গোল করে জয়ের নায়ক বনে যান কিম কিয়ং-ইয়ং। এ ছাড়া জয়ী দলের হয়ে মিয়ং ইউ-ঝং, চায়ে উন-ইয়ং এবং কিম হায়ে-ইয়ং একটি করে গোল করে বাংলাদেশের বড় পরাজয় নিশ্চিত করেন। টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের টিকে থাকার সমীকরণ এই হারের ফলে আরও কঠিন হয়ে পড়ল।
পুরো ম্যাচ জুড়ে উত্তর কোরিয়া একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে খেললেও গোলরক্ষক মিলি আক্তারের বীরত্বে ব্যবধান আরও বড় হওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে বাংলাদেশ। পোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে মিলি অন্তত পাঁচটি নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দিয়েছেন, না হলে হারের লজ্জা আরও কয়েক গুণ বাড়তে পারত।
ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার ৩১টি শটের মধ্যে ১১টি ছিল লক্ষ্যে। রক্ষণভাগে মিলির অতিমানবীয় কিছু সেভ ছিল আজকের ম্যাচের একমাত্র প্রাপ্তি। অন্য ডিফেন্ডাররা বারবার ঢাল হয়ে দাঁড়ালেও উত্তর কোরিয়ার পরিকল্পিত আক্রমণের তোড়ে শেষ পর্যন্ত ৫টি গোল হজম করতে হয়।
ম্যাচের কৌশলগত দিক বিশ্লেষণে বাংলাদেশের ফুটবলাররা আজ মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগে ছিলেন পুরোপুরি নিষ্প্রভ। ঋতুপর্ণা ও মারিয়ারা বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে বারবার ব্যর্থ হয়েছেন এবং পুরো ৯০ মিনিটে উল্লেখযোগ্য কোনো আক্রমণই গড়ে তুলতে পারেননি।
বল দখলের লড়াইয়ে উত্তর কোরিয়া ৬৫.৩ শতাংশ বল দখলে রেখেছিল আর বাংলাদেশের দখলে ছিল মাত্র ৩৪.৭ শতাংশ। আক্রমণভাগে কোনো চাপ তৈরি করতে না পারায় রক্ষণের ওপর ক্রমাগত চাপের সৃষ্টিতে একের পর এক গোল হজম করতে হয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলকে।
আগামী ৯ মার্চ পার্থে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হতে যাওয়া বাংলাদেশের মেয়েরা টানা দুই পরাজয়ে ব্যাকফুটে চলে যাওয়ায় এখন ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে উজবেকিস্তান কে ঘিরে। উজবেকিস্তান ম্যাচে মান বাঁচানোর লড়াইয়ে ঋতুপর্ণাদের নিজেদের ভুলত্রুটি শুধরে অন্তত একটি জয় নিয়ে মাঠ ছাড়বে এমনটাই আশা ফুটবল প্রেমীদের।