রাজধানীর সদরঘাটে দুই লঞ্চের মাঝে চাপা পড়ে ২ যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন এক অন্তঃসত্ত্বা নারী। এ ছাড়া দুইজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেল ৫টার দিকে টার্মিনালের ১৪ নং পন্টুনের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে সোহাগ (২২) নামে এক যুবকের পরিচয় পাওয়া গেছে।
রাতে কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, লঞ্চ সংঘর্ষের ঘটনায় সোহাগ নামে একজন নিহত হয়েছেন। রেবা নামে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারী আহত হয়েছেন, তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির মরদেহ মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। আহত নারী ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ‘আসা যাওয়া-৫’ (ঢাকা ইলিশা) লঞ্চে ট্রলার দিয়ে যাত্রী তোলার সময় সেটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় ‘এম ভি জাকির সম্রাট-৩’ (ঢাকা-দেউলা-ঘোষেরহাট) নামে আরেক লঞ্চ। তখন ধাক্কা দেওয়া লঞ্চের সামনের অংশের আঘাতে অপেক্ষমান লঞ্চের ওই যাত্রী দুজন পিষ্ট হয়ে নিহত হন। এর মধ্যে এক নারী গুরুতর আহত অবস্থায় পানিতে পড়ে যান।
পানিতে পড়ে যাওয়া নারীর নাম বোরা আক্তার (২০)। পুলিশ জানায়, বোরা আক্তার বরিশালের কাশিপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে লঞ্চে উঠেছিলেন। এ সময় পাশাপাশি থাকা দুটি লঞ্চের ধাক্কাধাক্কির মাঝে হঠাৎ তিনি নদীতে পড়ে যান। ঘটনার পরপরই আশপাশের লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহ ফয়সাল আহমেদ বলেন, দুই লঞ্চের ধাক্কায় সেই নারী পানিতে পড়ে যান। তার অবস্থা গুরুতর, তবে সর্বশেষ তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম-পরিচালক মুহম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, আসা যাওয়া- ৫’ লঞ্চের সঙ্গে ট্রলারের সংঘর্ষে সম্ভবত একজন যাত্রী নিহত হয়েছেন বলে শুনেছি। আরেকজন আহত হয়েছেন। তাকে উদ্ধার করে মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। মোবারক হোসেন আরো জানান, সদরঘাট ১৪ নং পণ্টুনের কাছেই এই ঘটনা ঘটেছে।