কুমিল্লায় ভয়াবহ বাস-ট্রেন সংঘর্ষে নিহত ১২ জনের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। নিহতদের প্রত্যেক পরিবারের জন্য ২৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. রেজা হাসান।
রোববার (২২ মার্চ) সকাল পৌনে ৯টার দিকে সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাফর সাদিক চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— কুমিল্লা বিআরটিএর সহকারী পরিচালক ফারুক আলম, ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ. মমিন, ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক ইকবাল হোসেন এবং কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার।
শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেন ‘মামুন পরিবহন’ নামের যাত্রীবাহী একটি বাসকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের পর ট্রেনটি বাসটিকে প্রায় ৫০০ মিটার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়।
প্রাথমিকভাবে ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে দাঁড়ায়। দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। তবে রোববার সকাল থেকে কুমিল্লা-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
এদিকে, ঘটনার তদন্তে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষও পৃথক দুটি কমিটি গঠন করেছে। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনটি উদ্ধারে আখাউড়া থেকে একটি রিলিফ ট্রেন আনার কথা জানিয়েছেন রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান।