কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে যাত্রীবাহী বাসে ট্রেনের ধাক্কায় নিহতদের পরিচয় জানা গেছে। রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেজিস্ট্রার বইতে তাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
নিহতরা হলেন- যশোরের পিন্টু ইসলামের স্ত্রী লাইজু আক্তার (২৬) এবং দুই মেয়ে খাদিজা (৬) ও মরিয়ম (৩), চাঁদপুরের চাপাতলী এলাকার মমিনুল হকের থেকে ইসলাম (৬৭), ঝিনাইদহ জেলার মুক্তার বিশ্বাসের ছেলে জিহাদ বিশ্বাস (২৪), যশোরের চৌগাছা এলাকার সিরাজুল ইসলাম (৭০) তার স্ত্রী কোহিনূর বেগম (৫৫) নোয়াখালীর সোনাইমুড়ির বাবুল চৌধুরী (৫৫), মাগুরার মোহাম্মদপুর এলাকার ওহাব শেখের ছেলে ফচিয়ার রহমান (২৬), চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের বিল্লাল হোসেনের ছেলে সোহেল রানা (২৫), নোয়াখালীর ফাজিলপুরের মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে নজরুল ইসলাম রায়হান (৪৫) ও লক্ষ্মীপুর সদরের সিরাজুল ইসলামের মেয়ে সাইদা (৯)।
এর আগে শনিবার (২১ মার্চ) রাত ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার দিকে যাওয়া মেইল ট্রেনটি মামুন পরিবহন নামের বাসে ধাক্কা দেয়। ট্রেনের ধাক্কায় বাসটি অন্তত আধা কিলোমিটার দূরে চলে যায়। দুর্ঘটনার প্রাথমিকভাবে ৭ জন নিহত হয়, পরে সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে পৌঁছায়।
দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্থগিত রাখা হয়। উদ্ধার কাজে অংশ নেয় ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব এবং আখাউড়া থেকে আসা রিলিফ ট্রেন। সকাল ৮টার দিকে রেল যোগাযোগ পুনরায় স্বাভাবিক হয়।
দুর্ঘটনার কারণে রেলক্রসিংয়ের দুই গেটম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা প্রদান করেছেন। এছাড়াও দুর্ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।