রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় যাত্রীবাহী একটি বাস পদ্মা নদীতে পড়ে গিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ২৩ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে এ তথ্য জানা গেছে। সকালে আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাফিজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটি নদীতে উল্টে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়দের সহায়তায় বেশ কয়েকজন বের হয়ে আসতে পারেন। আর বাকি যাত্রীরা নদীতে তলিয়ে যায়।
এখন পর্যন্ত যে ২৬ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে তাঁরা হলেন রাজবাড়ী পৌরসভার লালমিয়া সড়ক ভবানীপুর এলাকার রেহেনা আক্তার, তাঁর ছেলে আহনাফ তাহমিদ খান, কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ড মজমপুর গ্রামের মর্জিনা খাতুন, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খাগড়বাড়ীয়া গ্রামের রাজীব বিশ্বাস, রাজবাড়ী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সজ্জনকান্দা গ্রামের জহুরা অন্তি, একই মহল্লার কাজী সাইফ, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের চর বারকিপাড়া গ্রামের মর্জিনা আক্তার, তাঁর মেয়ে সাফিয়া আক্তার রিন্থি, কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার ধুশুন্দু গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের শিশু সন্তান ইস্রাফিল, রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের বিল্লাল হোসেনের সন্তান ফাইজ শাহানূর, রাজবাড়ী পৌরসভার সজ্জনকান্দা মহল্লার কেবিএম মুসাব্বিরের শিশু সন্তান তাজবিদ, রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার পশ্চিম খালখোলা গ্রামের গাড়িচালক আরমান খান, রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মহেন্দপুর ইউনিয়নের বেলগাছি গ্রামের নাজমিরা ওরফে জেসমিন, রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের লিমা আক্তার, একই ইউনিয়নের চর বেনিনগর গ্রামের জোৎস্না, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার আমতলী ইউনিয়নের নোয়াধা গ্রামের মুক্তা খানম, দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মথুয়ারাই গ্রামের নাছিমা, ঢাকার আশুলিয়া উপজেলার বাগধুনিয়া পালপাড়া গ্রামের আয়েশা আক্তার, রাজবাড়ী পৌরসভার সোহেল মোল্লার শিশু সন্তান সোহা আক্তার, কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার সমসপুর ইউনিয়নের গিয়াস উদ্দিনের শিশু সন্তান আয়েশা সিদ্দিকা, ঝিনাইদহর শৈলকুপা উপজেলার কাচেরকোল ইউনিয়নের খন্দকবাড়িয়া গ্রামের নুরুজ্জামানের শিশু সন্তান আরমান, রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের মহেন্দপুর গ্রামের আব্দুল আজিজের শিশু সন্তান আব্দুর রহমান ও রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশি ইউনিয়নের আগমারাই গ্রামের শরিফুল ইসলামের শিশু সন্তান সাবিত হাসান (৮) এবং উজ্জ্বল নামের এক ফল ব্যবসায়ী।
এদিকে নিখোঁজ যাত্রীদের স্বজনরা ফেরিঘাট এলাকায় ভিড় জমিয়ে আহাজারি করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে কাজ করছে। ঘটনাস্থলে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও দায় নির্ধারণে জেলা প্রশাসন এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেটকে। অন্যদিকে, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুহিদুল ইসলাম। উভয় কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।