সুভাষ বিশ্বাস, নীলফামারী:
নীলফামারী সদর উপজেলার টুপামারী ইউনিয়নে পরকীয়া সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মতিউল ইসলাম (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নিজের মায়ের সাথে পরকীয়া সইতে না পেরে ওই গৃহবধূর ছেলে আলামিন তাকে প্রকাশ্য ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেছেন।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে টুপামারী ইউনিয়নের কিসামত দোগাছি গ্রামে এই বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে। নিহত মতিউল ইসলাম ওই এলাকার হামিদ হোসেনের ছেলে। তিনি চার সন্তানের জনক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, নিহতের সাথে একই এলাকার একরামুল হকের স্ত্রী সাহের বানুর দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। মাসখানেক আগে তারা দুজন বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা হলে সাহের বানু তার স্বামীর সংসারে ফিরে আসেন। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছিল।
বৃহস্পতিবার রাতে সাহের বানুর ছেলে আলামিন ইসলামের (২৩) সাথে মতিউল ইসলামের দেখা হলে পুনরায় বিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে আলামিন তার কাছে থাকা তামাক কাটার ধারালো কাস্তি দিয়ে মতিউল ইসলামের গলায় সজোরে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই প্রচুর রক্তক্ষরণে মতিউলের মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে নীলফামারী সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত আলামিন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।
তবে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ,আলামিনের বাবা একরামুল হক (৫৫), মা সাহের বানু (৪৫), ছোট ভাই আপন ইসলাম (১৬) তিনজনকে আটক করেছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পরকীয়ার জেরে ক্ষুব্ধ হয়েই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত আলামিনকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নীলফামারী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জিল্লুর রহমান বলেন আলামিনকে গ্রেফতারের জন্য একাধিক টিম কাজ করছে। এরই মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ এর জন্য ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।