নোয়াখালী জেলায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে রেললাইনের ওপর গাছ উপড়ে পড়ায় ঢাকার সঙ্গে রেল যোগাযোগে সাময়িক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এতে আন্তঃনগর উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনটি দীর্ঘ সময় আটকে পড়ে যাত্রীদের ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। তবে কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপে বর্তমানে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে মাইজদী শহরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। প্রবল ঝড়ে মাইজদী কোর্ট স্টেশন সংলগ্ন রেললাইনের ১৭৩ নম্বর পিলারের কাছে একটি বড় কড়ই গাছ উপড়ে লাইনের ওপর পড়ে যায়।
এর ফলে ভোর থেকে নোয়াখালী-ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। সকাল ৬টায় নোয়াখালী স্টেশন থেকে ছেড়ে আসা উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনটি পথে হরিনারায়ণপুর এলাকায়ও গাছ পড়ে থাকায় বাধার সম্মুখীন হয়। পরে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহায়তায় গাছ সরিয়ে ট্রেনটি মাইজদী কোর্ট স্টেশনে পৌঁছালেও সেখানে আবারও আটকে যায়।
পরবর্তীতে রেলওয়ে কর্মী, ফায়ার সার্ভিস সদস্য এবং স্থানীয়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে রেললাইন থেকে গাছ অপসারণ করা হয়। এরপর সকাল ৮টা ২০ মিনিটে সোনাপুর স্টেশন থেকে ঢাকামুখী উপকূল এক্সপ্রেস পুনরায় যাত্রা শুরু করে।
ট্রেনটির চালক রফিকুল ইসলাম জানান, সামনে আরও কয়েকটি স্থানে গাছ পড়ে থাকার খবর রয়েছে, ফলে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
হঠাৎ এ বিলম্বের কারণে অনেক যাত্রী বিকল্প পরিবহন ব্যবহার করতে বাধ্য হন। ফলে কিছু সময়ের মধ্যেই ট্রেনটি প্রায় যাত্রীশূন্য হয়ে পড়ে, যদিও অল্পসংখ্যক যাত্রী ট্রেনেই অবস্থান করেন।
মাইজদী কোর্ট স্টেশনের স্টেশন মাস্টার কামরুজ্জামান বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়েছে।