| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সাত খুন

সাত খুনের আলোচিত মামলা: এক যুগ পেরিয়েও ঝুলে আছে চূড়ান্ত বিচার

  • আপডেট টাইম: 27-04-2026 ইং
  • 256 বার পঠিত
সাত খুনের আলোচিত মামলা: এক যুগ পেরিয়েও ঝুলে আছে চূড়ান্ত বিচার

 কোর্টের আপিল বিভাগে প্রায় সাত বছর ধরে ঝুলে আছে। ফলে দণ্ডিতদের সাজা কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে না, আর এতে হতাশা ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

ঘটনার দিন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণ করা হয়। তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে একে একে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যা দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

এই ঘটনায় দায়ের হওয়া দুটি মামলা একত্রে বিচার শেষে ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। পরে ২০১৮ সালে হাইকোর্ট ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে এবং ১১ জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তর করে।

এরপর দণ্ডিতরা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করেন। ২০১৯ সালে আপিল দায়ের হলেও এখনো তা নিষ্পত্তি হয়নি। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আপিলকারীদের পক্ষ থেকে মামলার সারসংক্ষেপ জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তা এখনো জমা পড়েনি বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, তারা এখনো তাদের মক্কেলের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাননি।

এদিকে বিচার বিলম্বে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতদের স্বজনরা। নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বলেন, “১২ বছর পার হলেও আমরা এখনো চূড়ান্ত বিচার পাইনি। আমরা আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।” তিনি দ্রুত আপিল নিষ্পত্তি করে রায় কার্যকরের দাবি জানান।

নিহত তাজুল ইসলামের বাবা আবুল খায়ের বলেন, “আমরা অনেকেই বেঁচে আছি শুধু বিচার দেখার আশায়। কেউ কেউ সেই অপেক্ষা করতে করতে মৃত্যুবরণ করেছেন। অন্তত মৃত্যুর আগে সন্তানের হত্যার বিচার দেখতে চাই।”

নিহত গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী শামসুন্নাহার আক্তার নূপুর বলেন, “স্বামীকে হারানোর সময় আমি অন্তঃসত্ত্বা ছিলাম। মেয়েটি এখন ১১ বছরের, কিন্তু বাবাকে কোনোদিন দেখেনি।” তার কণ্ঠে এখনো শোক আর অনিশ্চয়তার ভার।

আইনজীবী মহল মনে করছে, আপিলের সারসংক্ষেপ জমা পড়লেই মামলার কার্যক্রম দ্রুত এগোতে পারে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, সরকার যেন মামলাটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তি করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ায়।

এক যুগ পরও বিচার না হওয়ায় এই মামলাটি দেশের বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।

হাফিজ/ আয়না নিউজ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নতুন ঠিকানা - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪