লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (স্টেট ডিপার্টমেন্ট)। বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ওয়াশিংটন জানায়, চুক্তিটি কার্যকর হওয়া নির্ভর করছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তের ওপর। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ইরানসমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সব ধরনের হামলা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।
গত এপ্রিল মাসে দুই পক্ষের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। তবে সম্প্রতি দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলা এবং এর জবাবে উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর রকেট হামলার ঘটনায় সেই সমঝোতা আবারও হুমকির মুখে পড়ে। বুধবার দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হওয়ার পর নতুন করে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে।
মার্কিন বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েল ও লেবাননের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক কেমন হবে, তা নির্ধারণের অধিকার শুধুমাত্র এই দুই সার্বভৌম রাষ্ট্রেরই রয়েছে। একইসঙ্গে লেবাননের ভবিষ্যৎকে কোনো রাষ্ট্র বা অ-রাষ্ট্রীয় শক্তির প্রভাবাধীন করার প্রচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের লিতানি নদী থেকে ইসরায়েল সীমান্ত পর্যন্ত এলাকায় অবস্থানরত হিজবুল্লাহর সব সদস্য ও অপারেটিভদের প্রত্যাহার করতে হবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় লেবাননে কিছু ‘পাইলট জোন’ বা পরীক্ষামূলক নিরাপদ এলাকা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। এসব এলাকায় অন্য কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি থাকবে না এবং পুরো নিয়ন্ত্রণ থাকবে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীর (এলএএফ) হাতে।
এর আগে গত সোমবার দুই পক্ষের মধ্যে একটি আংশিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। সে সময় লেবানন জানায়, হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা বন্ধ রাখবে এবং বিনিময়ে ইসরায়েলও বৈরুতে বোমাবর্ষণ থেকে বিরত থাকবে। তবে আগামী ২২ জুন পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে আবারও আলোচনায় বসার কথা রয়েছে।
এদিকে নতুন যুদ্ধবিরতির বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি হিজবুল্লাহ। তবে সংগঠনটির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য মাহমুদ কামাতি দাবি করেছেন, প্রকৃতপক্ষে কোনো পূর্ণ যুদ্ধবিরতি হয়নি; বরং বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় দাহিয়েহ অঞ্চলকে সুরক্ষিত রাখার একটি সমঝোতা হয়েছে মাত্র। তিনি আরও বলেন, ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান আলোচনায় গৃহীত কোনো সিদ্ধান্ত মানতে হিজবুল্লাহ বাধ্য নয়।
এর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, চলমান আলোচনার মাধ্যমে হিজবুল্লাহর প্রভাবমুক্ত একটি স্বাধীন ও নিরাপদ লেবানন গঠনের পথ তৈরি হতে পারে।
চলতি সপ্তাহজুড়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের চেহুর এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় একটি অ্যাম্বুলেন্স ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এতে দুই প্যারামেডিক নিহত হন। এছাড়া বৈরুতের দক্ষিণে একটি ব্যক্তিগত গাড়িকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, সীমান্ত পেরিয়ে আসা একটি ড্রোন ও দুটি রকেট আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলি সেনাদের একটি সমাবেশ লক্ষ্য করে ওই হামলা চালিয়েছিল।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণার আগে ইসরায়েলি নেতারা সতর্ক করে বলেন, উত্তর ইসরায়েলের সীমান্ত এলাকায় হামলা অব্যাহত থাকলে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলি দাহিয়েহতে আবারও বিমান হামলা শুরু করবে ইসরায়েলি বাহিনী। উল্লেখ্য, দাহিয়েহ অঞ্চলটি হিজবুল্লাহর শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
হাফিজ/আয়র নিউজ