রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা বহুল আলোচিত মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু হয়েছে। শুনানিতে আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে আদালতে পাঠ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের উপস্থিতিতে যুক্তিতর্ক শুরু হয়।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেয়া আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পড়ে শোনান।
গ্রেফতারের পর আসামিসোহেল রানা আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে নিজেকে সোহেল রানা হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, তিনি ওই বাসার তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন এবং নিয়মিত নেশা করতেন।
সোহেল আরও বলেন, ‘পাশের বাসার ৮ বছরের শিশু রামিসা তাদের বাসার বাইরে এলে তাকে ডাক দিই। সে এলে তাকে বাথরুমে জোরপূর্বক নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করি। এরপর সে চিৎকার করলে মুখ চেপে ধরি। মুখে ওড়না বেঁধে আমি তাকে ধর্ষণ করি। এরপর সে অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে মৃত ভেবে রুম থেকে ছুরি আনি। লাশ গুম করতে চাই। এরপর তাকে মাথা কেটে বিচ্ছিন্ন করি। পরে হাত কেটে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করি। এ সময় শিশুটির মা খোঁজাখুঁজি করে দরজার বাইরে জুতা দেখে ডাকাডাকি করে। আমি ভয় পাই। পরে সেলাইরেঞ্জ দিয়ে গ্রিল কেটে বাইরে পালিয়ে যাই।’
আরও পড়ুন :
যুক্তিতর্কে এখন আসামিপক্ষের শুনানি চলছে। যুক্তিতর্ক শুনানিতে তোলার আগে অসুস্থতা অনুভব করেন সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হয়।
এর আগে মামলায় রামিসার বাবা–মা, প্রতিবেশী, প্রত্যক্ষদর্শী এবং তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৬ জন সাক্ষ্য দেন। গত ১৯ মে পল্লবীর একটি বাসা থেকে আট বছরের শিশু রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে একই ফ্ল্যাটে বসবাসরত সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার পরবর্তী ধাপে আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন চলছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
হাফিজ/ আয়না নিউজ