বাংলা ভাষায় কথা বলার ‘অপরাধে’ ভারতীয় নাগরিকদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশ ইন করেছে বিএসএফ। এমন অভিযোগ করেছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বসিরহাট এলাকার বাসিন্দা সুইটি বিবি।
সোনামসজিদ সীমান্তের শূন্য লাইনে দাঁড়িয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, বাংলাদেশি নন বারবার অনুরোধ করলেও বিএসএফ সদস্যরা জোর করে তাদের ঠেলে পাঠিয়ে দেয় বাংলাদেশে।
শুক্রবার ( ৫ ডিসেম্বর ) রাত, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ সীমান্ত। ভারতের কাছে ছয়জনকে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় ফেরত যেতে পারেন মাত্র দু’জন অন্তঃসত্ত্বা সোনালি খাতুন ও তার শিশু সন্তান। বাকি চারজনকে নিতে অস্বীকৃতি জানায় বিএসএফ।
এদের মধ্যে সুইটি বিবি জানান, দিল্লিতে কাজ করার সময় পুলিশ হানা দিয়ে তাদের দুই দিন থানায় রাখে। পরে তারা আমাদের ছাব তুলে নেয়। এরপর আধার কার্ড, ফিঙ্গারপ্রিন্ট তারপর ‘বাংলাদেশি’ শনাক্ত দেখিয়ে একটি জাহাজে তুলে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। তিনি বলেন, আমরা কেঁদে বলেছিলাম, বাংলাদেশ চিনি না কিন্তু কেউ আমাদের কথা শুনল না।
বাংলায় বলার কারণেই আমাদের পুশ ইন করেছে। আমরা বাংলাদেশি নই তবুও আমাদের জোর করে পাঠিয়ে দিয়েছে”
আরেক ভারতীয় নাগরিক দানেশ জানান, পুলিশ প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাদের মােবাইল ফোন, কাগজপত্র কেড়ে নিয়ে ভয় দেখিয়ে ‘বাংলাদেশি’ বলে চাপ প্রয়োগ করে আটক করে রাখে। কয়েকদিন পর গাড়িতে করে নিয়ে গিয়ে আসাম সীমান্তে ফেলে দেয়। সেখান থেকে জোরপূর্বক কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়।
দানেশ আরও বলেন, তারা বলে তোরা বাংলাদেশি। বেশি কথা বলিস না। পরে এক বাংলাদেশি ছেলের সঙ্গে আমাদের জঙ্গলের ভেতর দিয়ে পুশ ইন করে দিল।
বাংলাদেশে আসার পর স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক হোসেন তাদের জামিন নিয়ে নিজের বাড়িতে রাখেন। বিজিবিকে সহযোগিতা করে তাদের খাওয়ার ব্যবস্থা করেন বলেও জানান তিনি।
ফারুক হোসেন জানান, দুইজনকে নিয়ে গেছে ভারত। বাকি চারজনকে কেন নিল না তা জানায়নি বিএসএফ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের মুখপাত্র এ.এন.এম. ওয়াসিম ফিরোজ জানান, আদালতের নির্দেশেই ছয়জনকে ফারুকের জিম্মায় রাখা হয়। ভারতীয় হাইকমিশন ও বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগের ভিত্তিতে প্রথমে দুইজনকে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়েছে। বাকি চারজনের বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত আসেনি।
৫৯ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম কিবরিয়া বলেন, পুশ ইন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও দ্বিপাক্ষিক সীমান্ত চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ ধরনের আচরণ দুই দেশের সৌহার্দ্যপূর্ণ সীমান্ত ব্যবস্থাপনার পথে বড় বাধা।
লে. কর্নেল গোলাম কিবরিয়া বলেন, বিএসএফের অমানবিক পুশ ইন দীর্ঘদিন ধরে মানবিক সংকট তৈরি করছে। বাকি চারজনের তথ্য বিএসএফকে দেওয়া হয়েছে তারা অনুমোদনের অপেক্ষায়।
ভারতীয় পুলিশ ও বিএসএফের অভিযুক্ত এই পুশ ইন প্রক্রিয়ায় নতুন করে তৈরি হয়েছে মানবিক সংকট। চার ভারতীয় নাগরিক এখনো আটকে আছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জে। কবে বা আদৌ তারা ফিরতে পারবেন কিনা, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।