ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদী আজ ঢাকার একটি হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ভর্তি হয়েছেন। ঘটনায় রাজনীতিবিদ, ছাত্রনেতা ও সাধারণ মানুষদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) হাদীর অবস্থা আশঙ্কাজনক জানার পর ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন জুলাই আন্দোলনের সতীর্থরা। এ তালিকায় আছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলমও।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মোটরসাইকেলে দুজন আসামি তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং পরে দ্রুত পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক জানান, “ওসমান হাদীকে কিছুক্ষণ আগে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। বর্তমানে তিনি জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন।”
ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা হতাশা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম ফেসবুকে লিখেছেন, “ওসমান হাদীর দ্রুত রিকভারি কামনা করছি। সন্ত্রাস আর দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতি বন্ধ হোক। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সরকারকে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিতে হবে।”
এছাড়া, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা আবিদুল ইসলাম খান লিখেছেন, “নির্বাচনকে ঘিরে পতিত স্বৈরাচারের গুপ্ত হত্যার মিশনই আজকের ঘটনা। জুলাইয়ের সহযোদ্ধা ওসমান হাদী ভাইকে মহান আল্লাহ শেফা দান করুন। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে অনুধাবন হচ্ছে আমরা কেউই নিরাপদ নই। ইন্টেরিম! পতিত স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করুন।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমও এই ঘটনায় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ওপর প্রশ্ন তুলেছে।