| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে বৈঠক

  • আপডেট টাইম: 22-12-2025 ইং
  • 154071 বার পঠিত
প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে বৈঠক

দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি, বাজেট ব্যয় ও সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সূচক নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আয়োজিত এ বৈঠকে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর উপস্থিত ছিলেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ১২ মাসের গড় হিসেবে সর্বশেষ নভেম্বর ২০২৫-এ মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের নিচে নেমে আসে, যা জুন ২০২৩-এর পর প্রথম। পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে নভেম্বর ২০২৫-এ মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮.২৯ শতাংশে। সরকারের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ও কৃচ্ছসাধনের ফলে জুন ২০২৬-এর মধ্যে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে নেমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

মজুরি প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রেও ইতিবাচক অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। নভেম্বর ২০২৫-এ মূল্যস্ফীতি ও মজুরি প্রবৃদ্ধির হার যথাক্রমে ৮.২৯ শতাংশ ও ৮.০৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, ফলে প্রকৃত আয়ের ওপর চাপ আগের তুলনায় কমেছে।

কৃষি উৎপাদনে সন্তোষজনক ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে বলে বৈঠকে জানানো হয়। বোরো মৌসুমে ভালো ফলনের পাশাপাশি আমন ধানেও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত আমন ধানের উৎপাদন হয়েছে ১৬০.৯৫ লাখ টন। আউশ ধানের উৎপাদন কিছুটা কম হলেও সামগ্রিকভাবে আগের অর্থবছরের তুলনায় মোট উৎপাদন বেড়েছে ৭.২০ শতাংশ।

আর্থিক ও বৈদেশিক খাতে ভারসাম্য ফিরছে বলেও বৈঠকে জানানো হয়। ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত দেশের গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩২.৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা আগস্ট ২০২৪-এ ছিল প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার। প্রবাসী আয় বৃদ্ধি, বিনিময় হার স্থিতিশীলতা এবং সুদের হার বৃদ্ধির ফলে রিজার্ভ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

চলতি হিসাবে দীর্ঘদিনের ঋণাত্মক প্রবণতাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে চলতি হিসাব ঘাটতি নেমে আসে মাত্র ১৩৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে এ ঘাটতি ছিল ৭৪৯ মিলিয়ন ডলার।

প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রেও রেকর্ড অগ্রগতি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে ৫ লাখ কর্মীর বৈদেশিক নিয়োগ নিশ্চিত হয়েছে এবং একই সময়ে প্রবাসী আয় হয়েছে ১৩.০৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৭.১৪ শতাংশ বেশি।

এদিকে আমদানি ও ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বরে আমদানি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৬.১ শতাংশে। মূলধনী যন্ত্রপাতি ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানির ঋণপত্র খোলার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা দেশের উৎপাদন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বৈঠকে জানানো হয়, আর্থিক অব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণে আসায় দেশের অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে ভারসাম্য ফিরছে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার হচ্ছে।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নতুন ঠিকানা - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪