জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয়েছে। ভোট গ্রহণ শেষে বিভিন্ন বিভাগ থেকে ব্যালট বাক্স প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ে নেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার ( ৬ জানুয়ারি ) সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ আনুষ্ঠানিকভাবে বিকেল ৩টায় শেষ হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে লাইনে থাকা শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিকেল ৩টার পর নতুন করে কেউ ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারেননি। তবে এর আগে যারা লাইনে ছিলেন, তারা পর্যায়ক্রমে ভোট প্রদান করছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নির্বাচন কমিশনার কানিজ ফাতেমা কাকলি বলেন, বিকেল তিনটার পর কেউ ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে পারবে না, তবে আগে থেকেই লাইনে থাকা ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন।
প্রায় দুই দশক পর অনুষ্ঠিত এই ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পেরে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা। অনেকেই এটিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখছেন।
এবার জকসুর ২১টি পদের বিপরীতে মোট ১৫৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পাশাপাশি নারী শিক্ষার্থীদের নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল সংসদের ১৩টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩৩ জন প্রার্থী।
নির্বাচনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৯টি কেন্দ্রে ১৭৮টি বুথে মোট ১৬ হাজার ৩৬৫ জন শিক্ষার্থী ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পান। এতে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, বামদল ও জাতীয় ছাত্রশক্তির চারটি প্যানেল অংশ নেয়।
ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন করতে ক্যাম্পাসজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পুলিশ, র্যাবের ডগ স্কোয়াড ও সোয়াট টিমের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে বিএনসিসি, রোভার স্কাউটস ও রেঞ্জার ইউনিটি দায়িত্ব পালন করে। শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাংবাদিকদের নিয়ন্ত্রিত প্রবেশের মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ওএমআর মেশিনে ভোট গণনা শেষে আজ সন্ধ্যায় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে।