ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে রান্নাঘর স্থাপনসহ গুরুতর অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে দুই সিনিয়র স্টাফ নার্সকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. আনোয়ার হোছাইন আকন্দ স্বাক্ষরিত পৃথক আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া নার্সরা হলেন—নার্সিং সুপারভাইজার কল্পনা রানী মন্ডল এবং সিনিয়র স্টাফ নার্স রানী বালা হালদার।
আদেশে উল্লেখ করা হয়, হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে অবস্থিত অপারেশন থিয়েটারের অভ্যন্তরে গ্যাসের চুলায় রান্না করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড জনস্বাস্থ্য, রোগীর নিরাপত্তা ও নার্সিং পেশার ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে।
এতে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট নার্সরা অপারেশন থিয়েটারের শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা ও পেশাগত মান বজায় রাখার দায়িত্বে থাকলেও অনভিপ্রেত ও শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে তারা চরমভাবে ব্যর্থ হন। তাদের এই আচরণ সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ অনুযায়ী গুরুতর অসদাচরণের শামিল।
এ কারণে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা রুজুর স্বার্থে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে বিধি অনুযায়ী তারা খোরপোষ ভাতা পাবেন বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে, ঘটনায় হাসপাতালের আরও কয়েকজন নার্স ও চিকিৎসকের সম্পৃক্ততা থাকলেও শুধুমাত্র ভিডিওতে দৃশ্যমান দুই নার্সের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সেবাগ্রহীতারা।
মাহবুবুর রহমান নামে এক সেবাগ্রহীতা অভিযোগ করে বলেন, “দুই বছর ধরে অপারেশন থিয়েটারের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় অনিয়ম চললেও কর্তৃপক্ষ নীরব ছিল। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর শুধু ভিডিও দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এতে গাইনি বিভাগের চিকিৎসকরাও জড়িত ছিলেন।”
ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, সাময়িক বরখাস্তের আদেশের কপি পাওয়া গেছে এবং পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।