কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমারের সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন আরাকান আর্মির গুলিতে আহত হয়েছে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী হুজাইফা আফনান। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচার করলেও তার মাথার ভেতরে থাকা গুলি বের করা সম্ভব হয়নি।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে টেকনাফের হোয়াইক্যাং ইউনিয়নের তেচ্ছাব্রিজ এলাকার কাছে গুলিবিদ্ধ হয় হুজাইফা। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে এবং সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। রোববার রাতভর অস্ত্রোপচার চললেও গুলিটি মস্তিষ্কের স্পর্শকাতর স্থানে থাকায় তা অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। মস্তিষ্কের চাপ কমাতে তার মাথার খুলি খুলে আলাদা করে সংরক্ষণ করা হয়েছে, যা বর্তমানে ফ্রিজে রাখা আছে।
হুজাইফার চাচা শওকত আলী জানান, “হুজাইফার অবস্থা ভালো না। মাথার ভেতরে এখনো গুলি রয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ঝুঁকির কারণে এখনই গুলি বের করা যাচ্ছে না।”
এদিকে হুজাইফা গুলিবিদ্ধ হওয়ার একদিন পর সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে একই এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে হানিফ নামের এক যুবকের পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে তাকেও গুরুতর অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগীদের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি সীমান্তের ভেতরে প্রবেশ করে গুলি চালায় এবং এলাকায় স্থলমাইন পুঁতে রেখে যায়। স্থানীয়দের ধারণা, হউসের দ্বীপ এলাকা থেকে সন্ত্রাসীরা গুলি চালায় এবং সরে যাওয়ার সময় মাইন পুঁতে রাখে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া ও আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হারুন অর রশিদ বলেন, “ভোর ৪টা পর্যন্ত অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। গুলিটি মস্তিষ্কে অবস্থান করায় বের করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তবে মস্তিষ্কের চাপ কমানো হয়েছে।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, সীমান্ত এলাকায় আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা স্থলমাইনের কারণে আগেও একাধিক বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। তারা সীমান্তবর্তী জনগণের নিরাপত্তা জোরদার এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।