ইসলামী আন্দোলনকে সঙ্গে নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। এছাড়া ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৫০ আসন ফাঁকা রাখা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
আসন বণ্টন নিয়ে তীব্র টানাপোড়েনের মধ্যেই জামায়াতে ইসলামীসহ সমঝোতার আলোচনায় থাকা দলগুলোর শীর্ষ নেতারা জরুরি বৈঠকে বসেছেন। বৃহস্পতিবার ( ১৫ জানুয়ারি ) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
তবে বৈঠকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (আইএবি) কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক নেতা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে প্রত্যাশিত আসনে ছাড় না পেলে ১১ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আভাস দিয়েছিল দলটি।
এ বিষয়ে দুপুরে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এতে বলা হয়, আসন সমঝোতার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। বহুমাত্রিক ও বহুপাক্ষিক আলোচনা চলমান রয়েছে। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে ইসলামপন্থিদের ‘একবক্স নীতি’র ভিত্তিতে যে রাজনৈতিক সমঝোতার পথচলা শুরু হয়েছিল, তা জনমনে প্রত্যাশা তৈরি করেছে। কিছু অস্বস্তি তৈরি হলেও এখনই চূড়ান্ত মন্তব্যের সময় আসেনি বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট দলগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিকে অবহিত করবে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়। দলের কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ এই বার্তা পাঠিয়েছেন।
এদিকে আজকের বৈঠকের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিতে দেখা যায়, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহবায়ক নাহিদ ইসলাম, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চাঁদ, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমাদ আবদুল কাদেরসহ একাধিক শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন।
জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ আসন সমঝোতার আলোচনায় থাকা ১১ দলের মধ্যে টানাপোড়েন দিন দিন আরও তীব্র হচ্ছে। বিশেষ করে জামায়াতের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের অবিশ্বাস বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
জানা গেছে, চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গে জামায়াতের আসন সমঝোতা হয়নি। ইসলামী আন্দোলনের অভিযোগ, তাদের অবমূল্যায়ন ও অবহেলা করা হয়েছে এবং আলোচনা ছাড়াই অন্যায্য সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ফলে জোটে থাকা না থাকার বিষয়ে নতুন করে ভাবছে দলটি।
ইসলামী আন্দোলনের দাবি, অন্তত ১২০টি আসনে তারা দলীয় প্রতীক হাতপাখা নিয়ে এককভাবে নির্বাচন করতে চায়। তবে জামায়াত সর্বোচ্চ ৪২টির বেশি আসন ছাড়তে নারাজ। একইভাবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস অন্তত ২৭টি আসনে ছাড় দাবি করলেও জামায়াত ২০টির বেশি আসন দিতে রাজি নয়।
এ ছাড়া খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টিকে কোনো আসন ছাড়তে অস্বীকৃতি জানানোয় এসব দলও জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সূত্র বলছে, সমঝোতা ব্যর্থ হলে জামায়াতকে বাদ দিয়ে অন্যান্য ইসলামি দলগুলো পৃথক একটি নির্বাচনি জোট গঠনের পথে এগোতে পারে।
মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারির আগে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে কি না—তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।