লক্ষ্মীপুরে অবৈধভাবে প্রস্তুতকৃত ভোটের ছয়টি সিল জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতারসহ দুইজনের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী। এর আগে পুলিশ বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করে।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার ব্যক্তির নাম সোহেল রানা। তাকে মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তার কাছ থেকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া হবে। তদন্তের স্বার্থে অপর আসামির নাম পরে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেফতার সোহেল রানা সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের টুমচর গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে। তিনি জেলা শহরের পুরাতন আদালত সড়কে অবস্থিত ‘মারইয়াম প্রিন্টার্স’-এর স্বত্বাধিকারী।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সোহেলের দোকানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় সেখান থেকে ১৬ ঘর বিশিষ্ট ছয়টি ভোটের সিল, একটি কম্পিউটার এবং একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। পরে তাকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।
আটকের সময় সোহেল রানা পুলিশকে জানান, অর্ডারের ভিত্তিতে তিনি সিলগুলো তৈরি করেছিলেন। শুক্রবার সেগুলো নেওয়ার কথা থাকলেও অর্ডারদাতা ব্যক্তি তা নিতে আসেননি। ওই ব্যক্তির সঙ্গে তার হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ হয়েছিল এবং তিনি ভয়েস ম্যাসেজও পাঠিয়েছেন বলে দাবি করেন সোহেল।
এদিকে সিল জব্দের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রাতে লক্ষ্মীপুরে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি আটক সোহেলকে জামায়াতের কর্মী দাবি করে সিল কাণ্ডে জামায়াতের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেন।
এর জবাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে একই আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম বলেন, আটক সোহেল জামায়াতের কোনো কর্মী নন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।