জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, অতীতের প্রায় সব নির্বাচনই দেশি-বিদেশি মহলে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে এবং জনগণ সেগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে। এ কারণেই একসময় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। কিন্তু সেই ব্যবস্থা বাতিল করে আবার সরকারি দলের অধীনেই নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে। ফলে দেশে এমন একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যেখানে নির্বাচন মানেই প্রশ্নবিদ্ধ।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে রংপুর নগরীর সেনপাড়ায় নিজ বাসভবন দি স্কাইভিউতে কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।
জি এম কাদের বলেন, মানুষ এখন আর নির্বাচনের ওপর আস্থা রাখতে পারছে না। যারা সরকার পরিচালনা করছে, তারাই আবার নির্বাচন করছে। এমন অবস্থায় নির্বাচন কখনোই সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
হ্যাঁ-না গণভোট নিয়ে সমালোচনা করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, সাধারণ মানুষ বিষয়টি পুরোপুরি না বোঝার সুযোগ নিয়ে এই গণভোট আয়োজন করা হয়েছে। এটি কোনো স্বতঃস্ফূর্ত গণআন্দোলন নয়। শুরু থেকেই সংশ্লিষ্টরা স্বীকার করেছেন, এটি জনগণের আন্দোলন ছিল না। পরবর্তীতে কিছু রাজনৈতিক শক্তি প্রকাশ্যে বলেছে, তারা জনগণকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, পুরো বিষয়টি অসৎ উদ্দেশ্যে এবং অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। হ্যাঁ ভোটের মাধ্যমে দেশকে একটি আধিপত্যবাদী ও উগ্রপন্থী পথে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ‘গোলামী না আজাদী’—এই স্লোগান দেওয়া হলেও বাস্তবে তারা দেশকে নতুন এক ধরনের গোলামির দিকে নিয়ে যেতে চায়।
জি এম কাদের আরও বলেন, হ্যাঁ ভোটের মাধ্যমে জোর করে একটি বিশেষ শাসনব্যবস্থা কায়েম করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মানুষকে বিভ্রান্ত করা ও চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে নিজেদের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করাই এর মূল লক্ষ্য। এর ফলাফল হিসেবে দেশ উগ্রপন্থা ও সাম্প্রদায়িকতার দিকে ধাবিত হবে।
মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চলছে। স্বাধীনতার আগে দেশ নাকি ভালো ছিলএমন বার্তা দেওয়া হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধাদের ভূমিকা অপ্রয়োজনীয় ছিল বলেও প্রচার চালানো হচ্ছে। যারা গণহত্যা ও নারী নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ছিল, লাখো মানুষ হত্যা করেছে, সেই শক্তিকেই পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। ভারতের সহযোগিতাকেও ভুল হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে, যা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি কতটি আসন পেতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে জি এম কাদের বলেন, নির্বাচন আদৌ হবে কিনা, হলে তা সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে কিনা—সবই অনিশ্চিত। এমন বাস্তবতায় আগাম কোনো আসনসংখ্যা বলা সম্ভব নয়। এমনকি আমাকে জিততে দেওয়া হবে কিনা বা আমার আসনে ফেল করানো হবে কিনা—সবকিছুই অনিশ্চিত। ভোটের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
নিজের জনপ্রিয়তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার যথেষ্ট জনসমর্থন রয়েছে। তবে সেই সমর্থকরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন কিনা, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। জাতীয় পার্টির অবস্থান স্পষ্ট—নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া দেশে কখনোই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।