বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নির্বাচনের মাঠে সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব ও কার্যক্রম “প্রশংসনীয়”। তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেছেন যে, সেনাবাহিনী যদি ভোটগ্রহণের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বর্তমানের মতো দৃঢ় ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে, তবে দেশ একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন দেখতে পাবে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মিরপুরে জরুরি ব্রিফিংকালে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে ভোটাধিকারের মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের হারানো অধিকার ফিরে পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নির্বাচনী পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি জানান, ঢাকা-১৫ আসনে ভোটগ্রহণ স্বাভাবিক থাকলেও মিরপুর মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় বালিকা কেন্দ্রে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সেখানে কিছু প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের লোকজন সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করেছে এবং অনেককে শারীরিকভাবে সমস্যায় ফেলেছে।
ডা. শফিকুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা ভোটকেন্দ্র দখল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। তবে সেনাবাহিনীর সময়োচিত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তিনি বিশেষভাবে লাকসাম ও ভোলার লালমোহন এলাকার উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিএনপির সরাসরি হস্তক্ষেপ লক্ষ্য করা গেছে।
তিনি প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের প্রকৃত রায় প্রতিফলিত করতে নির্বাচনী পরিবেশকে সুষ্ঠু রাখা অত্যাবশ্যক। ঢাকার বাইরে যেখানে অনিয়মের খবর এসেছে, সেখানে দ্রুত সেনাবাহিনী পাঠানোর দাবিও জানান তিনি।
ব্রিফিং শেষে জামায়াত আমির তার নিজ আসনসহ সারাদেশে নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধারণ করে ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সাধারণ ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারলে অপশক্তির পরাজয় নিশ্চিত হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “সেনাবাহিনীর ওপর জনগণের অগাধ আস্থা রয়েছে। এই আস্থা রক্ষা করে একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন উপহার দেওয়া এখন সময়ের দাবি।”