মায়ানমারের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ ও আলোচনার পর কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূল ও নাফ নদী এলাকা থেকে বিভিন্ন সময়ে ধরে নিয়ে যাওয়া ৭৩ জন বাংলাদেশি জেলেকে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় ফেরত এনেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
সোমবার দুপুরে বিজিবির একটি প্রতিনিধিদল টেকনাফের জালিয়াপাড়া ট্রানজিট ঘাট থেকে নাফ নদীর শূন্য রেখার উদ্দেশে রওনা দিলে নদীর নির্ধারিত পয়েন্টে আরাকান আর্মি সদস্যরা জেলেদের তাদের স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজিবির রামু সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ।
বিজিবির রামু সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ আরো বলেন, আরাকান আর্মির দাবি জলসীমা অতিক্রম করে মায়ানমার অংশে প্রবেশের অভিযোগে এসব জেলেকে আটক করা হয়েছিল। এখনো আটক থাকা অন্য জেলেদের ফিরিয়ে আনতে বিজিবির পক্ষ থেকে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
ফেরত আসা জেলে নুরুল আলম বলেন, আটক অবস্থায় তাদের নিয়মিত খাবার দেওয়া হতো না তার ওপর চালানো হতো শারীরিক নির্যাতন। নুরুল আলমের ভাই ছৈয়দ আলমের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
জেলে বশির আহমেদ জানান, প্রায় পাঁচ মাস আগে তিনি আটক হওয়ার পরে বাংলাদেশি পরিচয় দিলেও তাদের হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়। পাশাপাশি সাগরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রশ্ন তুলে তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বিভিন্ন সময়ে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর এলাকা থেকে ট্রলারসহ অন্তত চার শতাধিক জেলে আরাকান আর্মির হাতে আটক রয়েছেন। তাদের মধ্যে এ দফায় ৭৩ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হলো। বাকিদের মুক্তির বিষয়েও কূটনৈতিক ও সীমান্ত পর্যায়ে তৎপরতা চলছে।