তুরস্কে ঘুমন্ত অবস্থায় রহস্যজনকভাবে এক বাংলাদেশি বাবা ও তাঁর ছেলের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় একইসঙ্গে থাকা তাঁদের স্বজন লিটন মিয়া অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
মৃতরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার তারেক মিয়া (৪৫) ও তাঁর ছেলে সাব্বির (২২)। অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন সাব্বিরের চাচাতো ভাই লিটন মিয়া (২৬)।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তারা খাদ্যে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তুরস্কে একটি বাসায় একসঙ্গে থাকতেন তারেক মিয়া, তাঁর ছেলে সাব্বির এবং চাচাতো ভাই লিটন মিয়া। একপর্যায়ে ঘুমন্ত অবস্থায় তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তারেক মিয়া ও সাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে লিটন মিয়া বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
ঘটনার সঠিক কারণ জানতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। খাদ্যে বিষক্রিয়া নাকি অন্য কোনো কারণে এই মৃত্যু হয়েছে তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
প্রবাসে থাকা সহকর্মীদের বরাতে পরিবারের সদস্যরা জানান, তুর্কি পুলিশ প্রাথমিকভাবে খাদ্যে বিষক্রিয়াকে মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ধারণা করছে। স্থানীয় একটি হাসপাতালে মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।
একসঙ্গে বাবা-ছেলের মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেড্ডা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন ও প্রতিবেশীরা শোকার্ত পরিবারের পাশে রয়েছেন।
মৃত তারেক মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী পারভীন আক্তার বলেন, “আমার বাবা ও ভাই কেউ বেঁচে নেই। এখন স্বামী ও সন্তানও মারা গেছে। আমি একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেলাম।” তিনি জানান, স্বামীর প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর মোবাইল ফোনে তাদের বিয়ে হয় এবং তিনি কখনো স্বামীকে সরাসরি দেখেননি।
তিনি সরকারের কাছে দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।