| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ

  • আপডেট টাইম: 08-03-2026 ইং
  • 68838 বার পঠিত
আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ

আজ ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস।  ‘‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’ ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে এবার দিনটি পালন করা হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে আজকের দিনটি কেবল উদযাপনের নয়, আত্মসমালোচনা ও অঙ্গীকারেরও। সমতার পথে অগ্রগতি হলেও এখনো অসংখ্য নারী তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। তাই শুধু প্রতীকী সম্মান নয়, প্রয়োজন বাস্তব পরিবর্তন। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাদের পৃথক বাণীতে বিশ্বের সব নারীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ইতিহাস শতবর্ষেরও বেশি পুরোনো। যুক্তরাষ্ট্রে নারী শ্রমিকেরা কর্মঘণ্টা কমানো, ন্যায্য মজুরি ও ভোটাধিকারের দাবিতে ১৯০৮ সালে আন্দোলনে নামলে তারই ধারাবাহিকতায়  ১৯১০ সালে কোপেনহেগেনে আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক নারী সম্মেলনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালনের প্রস্তাব ওঠে এবং ১৯১১ সালে প্রথমবারের মতো কয়েকটি দেশে দিবসটি উদযাপিত হয়।

দিবসটি উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন এনজিও ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা এবং সম্মাননা প্রদান কর্মসূচির আয়োজন করেছে। এর অংশ হিসেবে ‘অদম্য নারী পুরস্কার’ প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ‘গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এবারের প্রতিপাদ্যে অধিকার, ন্যায়বিচার ও উদ্যোগ বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। অধিকার মানে কেবল আইনে স্বীকৃতি নয়, বাস্তবে সেই অধিকার ভোগের সুযোগ। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এসব মৌলিক অধিকার নিশ্চিত না হলে নারীর উন্নয়ন অসম্পূর্ণ থেকে যায়।  ন্যায়বিচার হোলো বৈষম্য ও সহিংসতার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিকার। পারিবারিক সহিংসতা, যৌন হয়রানি, বাল্যবিবাহ এসব শুধু সামাজিক সমস্যা নয়, মানবাধিকার লঙ্ঘনও। আইন প্রণয়নের পাশাপাশি আরও গুরুত্বপূর্ণ তার সঠিক প্রয়োগ।  উদ্যোগ নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য সক্রিয় পদক্ষেপ। শুধু সমস্যা চিহ্নিত করলেই হবে না সমস্যা সমাধানে প্রয়োজন প্রশিক্ষণ, অর্থনৈতিক সহায়তা, প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার এবং নেতৃত্বের সুযোগ সৃষ্টি যাতে উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছায়।

তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারী দিবসের গুরুত্ব আলাদা। দেশের নারীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাকশিল্পে লাখো নারী দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছেন। শিক্ষা ক্ষেত্রেও মেয়েদের অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো। ক্ষুদ্রঋণ ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। 

নারীর অগ্রগতি মানে কেবল নারীর নয়, পুরো সমাজের অগ্রগতি। পরিবারে সমান দায়িত্ব বণ্টন, কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যহীন পরিবেশ, এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অংশগ্রহণ এসব নিশ্চিত হলে উন্নয়ন আরও গতিশীল হয়। বাল্যবিবাহ, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতা ও সামাজিক কুসংস্কারের মতো বড় চ্যালেঞ্জ এখনো আছে। তাই এবারে আমাদের জন্য বিশেষ প্রাসঙ্গিক অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে উদ্যোগ টেকসই হয় না।

 ১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রকে দিবসটি পালনের আহ্বান জানালে এরপর থেকে পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই যথাযথ মর্যাদায় উদযাপিত হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস 


ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নতুন ঠিকানা - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪