পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানীর হাইকোর্টসংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে আজ সকাল সাড়ে ৮টায় দেশের প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মুসল্লি অংশ নেন।
প্রধান জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক। দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ শেষে খুতবা প্রদান করা হয় এবং দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
মোনাজাতে এক মাস সিয়াম সাধনার মাধ্যমে অর্জিত তাকওয়ার ওপর আমল করার তাওফিক কামনা করা হয়। পাশাপাশি দেশের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য দোয়া করা হয়।
বিশ্ব পরিস্থিতি তুলে ধরে মোনাজাতে মুসলিম দেশগুলোতে চলমান সংঘাত, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে যুদ্ধ বন্ধ ও বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়। নির্যাতিত মুসলমানদের সুরক্ষা এবং তাদের পাশে দাঁড়াতে মুসলিম দেশগুলোর প্রতি ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ নেওয়ারও আহবান জানানো হয়।
এ সময় মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদারের পাশাপাশি সমগ্র মানবজাতির সুখ, শান্তি ও নিরাপত্তা কামনা করা হয়।
নামাজ ও মোনাজাত শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
জাতীয় ঈদগাহে এবারের প্রধান জামাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, বিচারপতি, রাজনৈতিক নেতা, সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন মুসলিম দেশের কূটনীতিকরা অংশ নেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় ঈদ জামাতের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়। প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজের ব্যবস্থা করা হয়, যার মধ্যে সাড়ে তিন হাজার নারী মুসল্লির জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়। নারীদের জন্য পৃথক প্রবেশপথ, অযু ও নামাজের স্থান নিশ্চিত করা হয়। এছাড়া মুসল্লিদের জন্য পর্যাপ্ত অযুখানা ও মেডিকেল টিমের ব্যবস্থাও রাখা হয়।
সব মিলিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে জাতীয় ঈদগাহে প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।