| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

যে যুদ্ধ বিমানে হরমুজের আকাশে ভরসা রাখছে আমেরিকা।

  • আপডেট টাইম: 27-03-2026 ইং
  • 40258 বার পঠিত
যে যুদ্ধ বিমানে হরমুজের আকাশে ভরসা রাখছে আমেরিকা।

মো. খায়রুল আলম খান : আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন সামরিক মহলে -১০ থান্ডারবোল্ট বিমানটি পরিচিতফ্লাইং ট্যাঙ্ক বাউড়ন্ত ট্যাঙ্ক নামে।

তৈরি করা হয়েছিল ইউরোপের সমভূমির ওপর দিয়ে এগিয়ে চলা সোভিয়েত ট্যাঙ্ক ধ্বংস করার জন্য। পুরোনো এবংকুৎসিত সেইউড়ন্ত ট্যাঙ্ক বাতিল করতেও চেয়েছিল আমেরিকা। কিন্তু সেইবুড়ো ঘোড়া -১০ থান্ডারবোল্ট বিমানই এখন ইরানের বিরুদ্ধে হরমুজ় অভিযানে আমেরিকার তুরুপের তাস। তৈরির কয়েক দশক পরে বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জলপথ হরমুজ় প্রণালীতে ইরানের অস্ত্রসজ্জিত জলযান নিধনে নেমেছে বিমানটি।

মার্কিন জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন পেন্টাগনের এক প্রেস বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধেঅপারেশন এপিক ফিউরি অংশ হিসাবে -১০ বিমানগুলি এখন হরমুজ় প্রণালীতে শত্রুপক্ষের ছোট জলযানগুলির ওপর হামলা চালাচ্ছে। ইরানকে ধরাশায়ী করতে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে হরমুজ় জুড়ে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)- আলাদা ভাবে উল্লেখ করেছে, -১০ বিমানগুলি শত্রুঘাঁটিতে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর ওপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে চক্কর কাটতে পারে। যে কোনও মুহূর্তে আক্রমণ চালানোর জন্যও প্রস্তুত থাকে বিমানটি। সেন্টকমও নিশ্চিত করেছে, হরমুজ়ে ইরানের অস্ত্রসজ্জিত জলযান ডোবানো ছাড়াও বিবিধ কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে -১০ থান্ডারবোল্ট -এর।

আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন সামরিক মহলে -১০ থান্ডারবোল্ট বিমানটি পরিচিতফ্লাইং ট্যাঙ্ক বাউড়ন্ত ট্যাঙ্ক নামে। অদ্ভুত চেহারার জন্যকুৎসিত বিমানএর তকমাও পেয়েছে -১০ থান্ডারবোল্ট ২।

১৯৭২ সালে চালু হওয়া পুরোনো সেই বিমানটিকে একাধিক বার বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা। কিন্তু এখন হরমুজ় প্রণালীতে ইরানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে -১০ থান্ডারবোল্ট দক্ষ বলে প্রমাণিত হওয়ার পর বিমানটিকে অবসরে পাঠানোর চিন্তা প্রসঙ্গে অনেক দিন ধরে চলা বিতর্কের পালে হাওয়া লেগেছে।

-১০ খ্যাতি অর্জন করেছিল আকাশ থেকে নয়, বরং মাটির কাছাকাছি গিয়ে হামলা চালানোর জন্য। যুদ্ধ পরিস্থিতিতেক্লোজ় এয়ার সাপোর্ট (সিএএস)’-এর জন্য একসময় এই বিমানের জুড়ি মেলা ভার ছিল। যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর সেনার মাথার ওপর দীর্ঘক্ষণ ধরে উড়তে, প্রচণ্ড আঘাত সহ্য করতে এবং নির্ভুল অবিরাম গুলিবর্ষণ করতে সক্ষম বিমানটি।

-১০ থান্ডারবোল্ট -এরজিএইউ- অ্যাভেঞ্জার রোটারিকামান প্রতি মিনিটে প্রায় হাজার ৯০০টি ইরেনিয়াম গুলি ছুড়তে পারে। বিমানের বহিরাবরণ এবং নকশা সেই বিশাল শক্তিশালী কামানটিকে কেন্দ্র করেই তৈরি করা হয়েছিল।

অতিরিক্ত হাইড্রলিক্স, চালককে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য টাইটেনিয়ামের তৈরিবাথটাবেরমতো দেখতে ছাদ এবং একটি মাত্র ইঞ্জিনে ওড়ার ক্ষমতা -১০ থান্ডারবোল্ট -কে এমন শক্তিশালী করেছে যা দ্রুততর এবং উন্নত বিমানগুলি কম উচ্চতা এবং কম গতিতে লক্ষ্য অর্জন করতে পারে না।

উপসাগরীয় যুদ্ধ এবং আফগানিস্তান ইরাকে দুদশক ধরে মার্কিন বাহিনীর গ্রাউন্ড কমান্ডারেরা -১০ বিমানটির ওপর এমন ভাবে আস্থা দেখিয়েছিলেন, যা তারা সুপারসনিক যুদ্ধবিমানগুলির ওপর দেখাতে পারেননি।

দ্রুত গতির জন্য অনেক পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য উন্নত বিমানগুলির চোখে ধরা পড়ে না। কিন্তু সে ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী -১০ থান্ডারবোল্ট ২। মাঝারি গতির এই বিমান অনেক কম উচ্চতায় উড়তে পারে। ফলে শত্রুপক্ষের গতিবিধি শনাক্ত করতে সুবিধা হয় চালকদের।

তবে আমেরিকার বিমানবাহিনী বহু বছর ধরে -১০কে অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে চিন্তা করে চলেছে। বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাদের যুক্তি, ওই বিমানগুলিকে বাতিল করা গেলে যে অর্থ সাশ্রয় হবে তা চিন এবং রাশিয়ার সঙ্গে অস্ত্র প্রতিযোগিতায় আমেরিকাকে অনেক এগিয়ে দেবে।

ক্লোজ় এয়ার সাপোর্ট (সিএএস)’-এর ক্ষেত্রে আমেরিকার বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা -১০কে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ দিয়ে প্রতিস্থাপিত করার সপক্ষে যুক্তি দিয়েছিলেন। কিন্তু অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার পর সেই প্রস্তাব ক্রমশ জটিল হয়ে উঠেছে এবং বিভিন্ন মূল্যায়নে প্রশ্ন উঠেছে যে, পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানটি আদৌ -১০র বিকল্প কি না?!

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ জাতীয় প্রতিরক্ষা অনুমোদন আইনটি বড় আকারের বিমান বাতিল করার বিষয়টি সাময়িক ভাবে স্থগিত করেছে। মার্কিন বিমানবাহিনী কংগ্রেসের কাছে বিমানের অবসর সংক্রান্ত পরিকল্পনা জমা না দেওয়া পর্যন্ত -১০ বিমানের বহরের সর্বনিম্ন সংখ্যা ১০৩-এর বেশি না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সেই সময়সীমা পরিবর্তিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আমেরিকার বিমানবাহিনী প্রকাশ্যে কিছু জানায়নি

অলাভজনক এবং নির্দলীয় মার্কিনথিঙ্ক ট্যাঙ্কস্টিমসন সেন্টারের কর্তা ড্যান গ্রেজ়িয়ার জানিয়েছেন, হরমুজ় অভিযানে সাফল্যের কারণে -১০ বিমানের অবসরের যুক্তি কঠিন হয়ে পড়েছে।ডিফেন্স ওয়ান ওয়েবসাইটকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে গ্রেজ়িয়ার বলেন, ‘‘-১০ শুধুমাত্র সামরিক কার্যকারিতাকে কেন্দ্র করে তৈরি একটি অস্ত্রব্যবস্থা। এটিকে প্রতিস্থাপন করতে চাওয়া যুক্তিগুলির চেয়ে এটি বেশি কর্মক্ষম।

আমেরিকার চতুর্থ এবং পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানগুলি ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম)-কে দুর্বল করে দিয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের দাবি, যে কোনও দীর্ঘমেয়াদি অভিযানে সস্তা ড্রোনের বিরুদ্ধে ব্যয়বহুল যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা খুব একটা কাজের কথা নয়। কারণ একটি অত্যাধুনিক বিমান নষ্ট হওয়ার অর্থ কয়েকশো কোটির ক্ষতি। সে ক্ষেত্রে -১০ থান্ডারবোল্ট - মতো পুরোনো বিমান ব্যবহারই যুক্তিযুক্ত।

কয়েক সপ্তাহ আগে পশ্চিম এশিয়ার একটি অজ্ঞাত মার্কিন ঘাঁটিতে আমেরিকার বিমানবাহিনীর অত্যাধুনিক এফ-৩৫এ যুদ্ধবিমান জরুরি অবতরণ করা নিয়ে বিবিধ জল্পনা ছড়ায়। এফ-৩৫এ লাইটনিং হল মার্কিন বিমানবাহিনীর সবচেয়ে দামি বিমান। স্টেলথ বিমানটি এমন অত্যাধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি যে শত্রুর রাডারে ধরা পড়ার আশঙ্কা প্রায় নেই বললেই চলে। তা সত্ত্বেও, একটি এফ-৩৫এ বিমান জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয় বলে নিশ্চিত করেছিল পেন্টাগন।

ইরানের সামরিক বাহিনীইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)’ দাবি করেছিল, তাদের তরফেই আঘাত হানা হয়েছিল আমেরিকার সবচেয়ে আধুনিক যুদ্ধবিমানটিতে। ইরানের সামরিক বাহিনীর দাবি, তাদের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র এফ-৩৫ বিমানটির বাম পাশে আঘাত হানে। তবে ইরানের গোলাবর্ষণে বিমানটি অবতরণ করতে বাধ্য হয়েছিল কি না বা ইরান কোনও বিশেষ যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করে যুদ্ধবিমানটিকে নামিয়েছিল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আমেরিকা জানিয়েছে, ইরানের দাবি তদন্ত করে দেখছে তারা।

ফলে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে এফ-৩৫-এর মতো অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানও যেখানে অকেজো বলে প্রমাণিত হচ্ছে, সেখানে -১০ বিমানটি হরমুজ়ে ইরানের অস্ত্রসজ্জিত জলযান গুলোর ওপর ক্রমাগত গুলিবর্ষণ করছে। সাফল্যও পাচ্ছেকুৎসিতবিমানটি। ফলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, -১০ থান্ডারবোল্ট বিমানটিকে বাতিল করা নিয়ে কৌশলগত ভাবে ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না তো মার্কিন সামরিক বাহিনী?

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নতুন ঠিকানা - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪