| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

মেঝে খুঁড়তেই বের হলো গর্ভধারিণী মায়ের মরদেহ, ঘাতক ছেলে পলাতক

  • আপডেট টাইম: 04-06-2026 ইং
  • 184 বার পঠিত
মেঝে খুঁড়তেই বের হলো গর্ভধারিণী মায়ের মরদেহ, ঘাতক ছেলে পলাতক

সুভাষ বিশ্বাস,নীলফামারী : নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় মাকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখার ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে এক ছেলের বিরুদ্ধে। লোমহর্ষক এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত ছেলে জুয়েল মিয়া (৪০) ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের উত্তর বড়ভিটা ময়দানপাড়া গ্রামে জুয়েলের ঘরের মেঝে খুঁড়ে ষাটোর্ধ্ব মারুফা বেগমের গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত মারুফা বেগম ওই এলাকার মৃত আশরাফ আলীর স্ত্রী।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (১ জুন) শেষবারের মতো মারুফা বেগমকে দেখতে পান প্রতিবেশীরা। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।

নিহতের ছোট ছেলে লাভিন মিয়া জানান, তিনি ঢাকায় থাকেন এবং ঈদের ছুটিতে গত ৩০ মে বাড়িতে আসেন। একই দিন পারিবারিক কলহের জেরে বড় ভাই জুয়েলের স্ত্রী হাসি বেগম ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান। পরে ৩১ মে তিনি তার মাকে জুয়েলের জিম্মায় রেখে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যান।

বুধবার দুপুরে বাড়ি ফিরে মাকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে লাভিনের স্ত্রী ঘরের বিছানার তোষক তুলতেই জমাট বাঁধা রক্তের দাগ দেখতে পান। বিষয়টি দেখে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা সন্দেহ করেন। পরে জুয়েলের শোবার ঘরের মেঝের একপাশে সদ্য খোঁড়া মাটির চিহ্ন দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাত সাড়ে ১১টা থেকে মেঝে খোঁড়ার কাজ শুরু করে। একপর্যায়ে সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় মারুফা বেগমের মরদেহ।

পুলিশ জানায়, সুরতহাল প্রতিবেদনে মরদেহের মাথার সামনের বাম পাশে গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভারী কোনো বস্তু দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। পরে প্রমাণ গোপনের উদ্দেশ্যে মরদেহ ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখা হয়।

মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বৃহস্পতিবার সকালে নীলফামারী জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।


কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আব্দুল কুদ্দুস জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জুয়েলের স্ত্রী হাসি বেগম (৩৫) ও ছেলে গোলাম রাব্বীকে (১৮) থানায় নেওয়া হয়েছে।

থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ছেলে জুয়েল মিয়াই তার মাকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রেখেছিল। তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

এ ঘটনায় নিহতের ছোট ছেলে বাদী হয়ে হত্যা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সুভাষ/ হাফিজ/ আয়না নিউজ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নতুন ঠিকানা - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪