সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্স সুলতান এয়ার বেইস‑কে লক্ষ করে ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এতে কমপক্ষে ১২ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। খবর, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও বিভিন্ন বার্তা সংস্থা।
শুক্রবার (২৭ মার্চ ২০২৬) এ ঘটনা ঘটে। হামলায় কয়েকটি মার্কিন রি‑ফুয়েলিং (এয়ার রিফুয়েলিং) বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরান সুযোগটি ব্যবহার করে বেসটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন একযোগে ছোড়ে।
সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রায় ২,৩২১ জন মার্কিন সৈন্য আছেন, যারা দেশটিতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা, মার্কিন বিমান কার্যক্রমে সহায়তা এবং সৌদি সরকারের সঙ্গে মিলিয়ে সামরিক কার্যক্রম চালান। এ ঘাঁটিটি রিয়াদ থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত।
এই হামলা ঘটছে এমন এক সময়ে যখন ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছে, বিশেষ করে ইরানের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে গত ফেব্রুয়ারি মাসে এক সংলাপ চলেছিল, কিন্তু ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো চুক্তি ছাড়াই তা শেষ হয়।
এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে, এবং একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে। অভিযানের প্রথম দিন ইরানে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তারা নিহত হন।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের সাত দেশসমূহে মার্কিন ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে, এবং এই আক্রমণ চলমান রয়েছে।
আগেও ১ মার্চ একই ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছিল, যেখানে আহতদের মধ্যে এক সার্জেন্ট বেঞ্জামিন এন. পেনিংটন (২৬) নামের এক মার্কিন সেনা কয়েক দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধের শুরু থেকে গত এক মাসে ৩০০’র বেশি মার্কিন সেনা আহত হয়েছে।