জাতীয় সংসদে সরকারের নির্বাচনী ইশতাহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত বিভিন্ন খাতের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিও দেশবাসীর সামনে উপস্থাপন করেন তিনি।
বুধবার (১ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য মোছা. তাহসিনা রুশদীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতাহারে ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ আগামী ১৮০ দিন, আগামী অর্থবছর এবং আগামী ৫ বছরের জন্য সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে কাজ করছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষিঋণ মওকুফ
প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সহায়তা দিতে ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে ৩৭ হাজার ৮১৪টি নারীপ্রধান পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের সুরক্ষায় ‘কৃষক কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে।
ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী
পবিত্র ঈদুল ফিতর-এর আগে ৯ হাজার ১০২ জন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সম্মানী প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত, সেবাইত এবং বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতারা অন্তর্ভুক্ত।
ই-হেলথ কার্ড ও শিক্ষা সহায়তা
খুলনা জেলায় ২৫ লাখ ই-হেলথ কার্ড বিতরণের একটি প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিক্ষার্থীর মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
খাল খনন ও বনায়ন কর্মসূচি
আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ১,২০৪ কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যে দেড় কোটি চারা উৎপাদন করা হয়েছে।
শিক্ষায় প্রযুক্তি ও ভাষা দক্ষতা
কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নে ৯ হাজার শিক্ষককে ট্যাব প্রদান এবং ৩,৮৩২টি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ইতালিয়ান ও জাপানি ভাষা শিক্ষার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে এবং ২০২৬ সালের মধ্যে শতাধিক প্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
ক্রীড়া উন্নয়ন ও ভাতা
দেশব্যাপী খেলার মাঠ উন্নয়নে পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি জাতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য ‘ক্রীড়া ভাতা’ চালু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে এর আওতায় আনা হবে, যার মধ্যে ইতোমধ্যে ১২৯ জন ভাতা পেয়েছেন।
ডিজিটাল সেবা ও অর্থনীতি
দেশে পেপ্যাল চালু ও হাইটেক পার্ক কার্যকর করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের জন্য ঋণ সুবিধা বৃদ্ধি
বিদেশে ভাষা শিক্ষার জন্য জামানতবিহীন ঋণসীমা ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে। বিশেষ করে জাপানগামী শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই প্রতিশ্রুত উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।