ফ্যাসিস্ট সরকারের অপরাধ, সীমাহীন লুটপাটের কারণে অর্থনীতি ধ্বংস হয়েছে। যার ফলে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক খাত অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে বলেন, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে যেখানে স্থির মূল্যে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.৭৮ শতাংশ, তা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কমে ৪.২২ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি ৭.১৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯.৭৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, শিল্পখাতের প্রবৃদ্ধি ১০.৬৬ শতাংশ থেকে কমে ৩.৫১ শতাংশে এবং কৃষিখাতে ৫.৭৭ শতাংশ থেকে ৩.৩০ শতাংশে নেমে এসেছে। পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়ায় তরুণরা কৃষিখাতে ঝুঁকছে, যা ছদ্ম বেকারত্ব বাড়াচ্ছে এবং উৎপাদনশীলতা কমাচ্ছে।
আরও পড়ুন-
সীমাহীন লুটপাটের কারণে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে: অর্থমন্ত্রী
অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমানে মোট কর্মসংস্থানের ৪১ শতাংশ কৃষিখাতে হলেও জাতীয় আয়ে এর অবদান মাত্র ১১.৬ শতাংশ। তিনি এটিকে ‘জবলেস গ্রোথ’-এর ঝুঁকির ইঙ্গিত হিসেবে উল্লেখ করেন।
সঞ্চয় ও বিনিয়োগের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। ২০০৫-০৬ সালে জাতীয় সঞ্চয় ছিল ২৯.৯৪ শতাংশ, যা ২০২৩-২৪ সালে কমে ২৮.৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একইসঙ্গে টাকার মান উল্লেখযোগ্যভাবে অবমূল্যায়িত হয়েছে—ডলারের বিপরীতে ৬৭.২ টাকা থেকে বেড়ে ২০২৪-২৫ সালে ১২১ টাকায় পৌঁছেছে।
ব্যাংকিং খাতের তারল্য সংকটের কথাও উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ১৮.৩ শতাংশ থেকে কমে ৬.৫ শতাংশে নেমে এসেছে। রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি এবং রাজস্ব ফাঁকি দেশের আর্থিক সক্ষমতাকে দুর্বল করেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের সময়ে নেওয়া মেগা প্রকল্পগুলো যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়াই বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং এসব প্রকল্পে অতিমূল্যায়নের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ প্রত্যাশিত সুফল থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নতুন সরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশের অর্থনীতিকে পুনর্গঠনের পথে এগিয়ে নেবে।
হাফিজ/ আয়না নিউজ