বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলায় বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ করা হয়েছে। আনন্দ শোভাযাত্রা, লোকজ মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজনে মুখর হয়ে ওঠে গ্রাম-শহর।
লক্ষ্মীপুরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকালে আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কালেক্টরেট প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। পরে বেলুন উড়িয়ে নববর্ষ এবং তিন দিনব্যাপী লোকজ মেলার উদ্বোধন করা হয়।
নেত্রকোনায় “নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মোক্তারপাড়া মাঠ থেকে শোভাযাত্রা বের করা হয়। দিনব্যাপী আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেলার আয়োজন করা হয়।
ময়মনসিংহে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় গ্রামবাংলার ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়। মোরগ, ঘোড়া, পুতুল, ইলিশসহ নানা প্রতীকে সাজানো শোভাযাত্রা নগরজুড়ে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি করে। পরে জয়নুল আবেদিন উদ্যানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পৌর মুক্তমঞ্চ থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে ফারুকী পার্কে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে লাঠিখেলা, মোরগ লড়াইসহ লোকজ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় এবং বসে বৈশাখী মেলা।
গোপালগঞ্জে ভোর থেকেই জাতীয় সংগীত ও ‘এসো হে বৈশাখ’ গানের মাধ্যমে নববর্ষ বরণ করা হয়। দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও শিশুদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
নওগাঁয় এটিম মাঠ থেকে বের হওয়া শোভাযাত্রায় গরুর গাড়ি, পালকি ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা উপকরণ শোভা পায়। বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ এতে অংশগ্রহণ করেন।
বরগুনায় সংগীতানুষ্ঠান ও শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে নববর্ষ উদযাপন করা হয়। জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও পৃথকভাবে বর্ষবরণের আয়োজন করা হয়।
রাজশাহীতে কেন্দ্রীয় উদ্যান থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে শেষ হয়। পরে সেখানে গান, নৃত্য ও আবৃত্তিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
বান্দরবানে বাঙালিদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অংশগ্রহণে শোভাযাত্রা আরও বর্ণিল হয়ে ওঠে। একইসঙ্গে সেখানে বৈসাবি উৎসবও চলছে।
শেরপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে ডিসি উদ্যানে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে তিন দিনব্যাপী লোকজ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
এদিকে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আনন্দ শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নববর্ষ উদযাপন করা হয়। দিনব্যাপী নানা কর্মসূচিতে অংশ নেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সারাদেশে এভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে বাংলা নববর্ষ, যা বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে নতুন করে উজ্জীবিত করেছে।
হাফিজ/ আয়না নিউজ