উপজেলা ভূমি অফিসে বিদ্যমান দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন ভূমি মন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রংপুর-৪ আসনের এনসিপি দলীয় সদস্য আখতার হোসেনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, দালালদের প্রভাব কমাতে ই-নামজারি ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এখন সব ধরনের ভূমিসেবা অনলাইন আবেদন ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। আবেদনের প্রতিটি ধাপ—নোটিশ জারি, শুনানি ও অনুমোদন—এসএমএসের মাধ্যমে আবেদনকারীকে জানানো হয়, যাতে প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায় এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের সুযোগ বন্ধ হয়।
তিনি আরও জানান, ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থাও সম্পূর্ণ অনলাইন করা হয়েছে। নাগরিকরা এখন জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বিকাশ, নগদ, রকেটসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে সরাসরি সরকারি কোষাগারে কর পরিশোধ করতে পারছেন। এতে নগদ লেনদেন ও অনিয়মের সুযোগ অনেকাংশে কমে গেছে।
মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি ও আকস্মিক পরিদর্শনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। অনুপস্থিতি বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন :
কোচিং সেন্টারগুলো আইনের আওতায় আনা হবে : শিক্ষামন্ত্রী
এছাড়া ভূমি অফিসে ঘুষ বা দালাল সংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে ১৬১২২ হটলাইন চালু রয়েছে, যা ২৪ ঘণ্টা সচল। প্রাপ্ত অভিযোগ সরাসরি মন্ত্রণালয় থেকে মনিটর করা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী বলেন, ভূমি জরিপ ও মানচিত্র জালিয়াতি রোধে ডিজিটাল সার্ভে চালু করা হয়েছে। ড্রোন ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্ভুল মানচিত্র তৈরির কাজ চলছে, যা ভবিষ্যতে সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, নাগরিকরা land.gov.bd পোর্টালের মাধ্যমে ঘরে বসেই খতিয়ান দেখতে এবং নির্ধারিত ফি দিয়ে ডাকযোগে পর্চা সংগ্রহ করতে পারছেন। পাশাপাশি ভূমিসেবা অ্যাপ, অভিযোগ ব্যবস্থাপনা সিস্টেম এবং ভূমি অধিগ্রহণ ও লিজ ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যারসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা চালুর কাজ চলমান রয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ভূমি খাতে দুর্নীতি আরও কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।