| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ত্রিভুজ প্রেমের নির্মম পরিণতি জোড়া খুন

  • আপডেট টাইম: 27-04-2026 ইং
  • 118 বার পঠিত
ত্রিভুজ প্রেমের নির্মম পরিণতি জোড়া খুন

গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পূর্ব থানার উত্তর বনমালা এলাকায় একই রাতে ছোট ভাইয়ের নৃশংস হত্যা এবং বাবার মৃত্যু কেবল একটি পরিবারকে নয়, পুরো এলাকার মানুষকে নাড়িয়ে দিয়েছে। একসময় যেখানে ছিল একটি সাধারণ পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাপন। সেখানে আজ নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। সিসিটিভি ফুটেজ, আদালতে দেওয়া জবানবন্দি এবং পুলিশের বক্তব্য মিলিয়ে উঠে এসেছে ত্রিভুজ প্রেম, পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং ঠাণ্ডা মাথার পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের এক ভয়াবহ গল্প।

গভীর রাত বাড়ির সবাই যখন ঘুমে অচেতন ঘটনার শুরু তখন। বাড়ির বড় ছেলে সোহান (২৮) তার ছোট ভাই সাকিব (১৮)-এর ওপর হামলা চালিয়ে প্রথমে ধারাল অস্ত্র দিয়ে ছোট ভাইয়ের হাত ও পায়ের রগ কাটে যাতে সে পালাতে না পারে। এরপর ধারাল অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাতে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে। কেউ কিছু টের পাওয়ার আগেই নিভে যায় একটি তরুণ প্রাণ।

এখানেই ঘটনার শেষ না। সাকিবকে হত্যার সময় বাবা সোহেল রানা (৫০) দেখে ফেলায় নিজেকে দ্বিতীয় শিকারে পরিনিত হতে হয় তার। হত্যার   বিষয়টি ধামাচাপা দিতে সোহান আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত একজন সহযোগীকে ডেকে নিয়ে দুজন মিলে সোহেল রানাকে জোর করে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যায় যে দৃশ্য সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে। 

আরও পড়ুন- 

 ছেলে ও বাবার মরদেহ উদ্ধার

রাতের অন্ধকারে দুইজন ব্যক্তি একজন দুর্বল মানুষকে ধরে রেললাইনের ওপর ফেলে রেখে দ্রুত সরে যায়। কিছু সময় পর ট্রেনের নিচে পড়ে মৃত্যু হয় সোহেল রানার। প্রাথমিকভাবে এটিকে হত্যার অংশ হিসেবে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ঘটনার পর এলাকায় গুজব ছড়ায় বাবা ছোট ছেলেকে হত্যা করে আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু খুব বেশিক্ষণ ধোপে টেকেনি এই গল্প।  সিসিটিভি ফুটেজ সব মিথ্যা ভেঙে দিয়ে সেখানে সোহানের উপস্থিতি এবং তার সন্দেহজনক গতিবিধি এই তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে সামনে নিয়ে আসে প্রকৃত সত্য।

হত্যাকাণ্ডের পরে সোহানের আচরণ ছিল রহস্যজনক। সে  না পালিয়ে স্বজনদের ফোন করে হত্যার খবর জানাতে থাকলে ফোনকলের সময়, বক্তব্য এবং বাস্তব ঘটনার মধ্যে অসঙ্গতি পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের মতে,সোহান ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে যাতে সন্দেহ অন্যদিকে ঘুরে যায়। 

যে কারণে হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটেছে তা হলো একটি ত্রিভুজ প্রেম। জানা গেছে, খালাতো বোনের সঙ্গে সোহানের বিয়ে ঠিক হয়েছিল। কিন্তু সেই মেয়ের সঙ্গে গোপনে সম্পর্ক গড়ে তোলে সোহানের ছোট ভাই সাকিব। বিষয়টি জানার পর দুই ভাইয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। সোহানের বারবার সতর্কতা থামাতে পারেনি সাকিবকে। ধীরে ধীরে এই সম্পর্কের মানসিক চাপ, অপমানবোধ এবং জমে থাকা ক্ষোভ শেষ হয় রক্তাক্ত প্রতিশোধে। 

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (ক্রাইম) মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ত্রিভুজ প্রেমের বলি হয়ে বড় ভাই একাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। আমরা ঘটনাটির প্রতিটি দিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। সোহান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। 

 

 এফএ/ আয়না 

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নতুন ঠিকানা - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪