| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধের প্রবক্তা আতেফ নাজিবের বিচার শুরু

  • আপডেট টাইম: 27-04-2026 ইং
  • 126 বার পঠিত
সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধের প্রবক্তা আতেফ নাজিবের বিচার শুরু

মো: খায়রুল আলম খান : গেলো দিনটি ছিলো সিরিয়ার জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। সিরিয়ান ক্রিমিনাল কোর্ট রোববার বাশার আল-আসাদ সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু করেছে এবং বিচারের প্রথম দিনেই আতেফ নাজিবকে আদালতে তোলা হয়েছে।

আতেফ নাজিব হচ্ছেন বাশার আল-আসাদের আপন খালাতো ভাই। ২০১১ সালে তিনি ছিলেন দেরা প্রদেশের নিরাপত্তা প্রধান। বিশেষজ্ঞদের মতে,  সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ শুরুর পেছনে যদি এককভাবে কোনো ব্যক্তিকে দায়ী করতে হয়, তাহলে সেটা হবে এই আতেফ নাজিব।

কারণ এই দেরা প্রদেশের আরবাঈন স্কুল থেকেই বাশারের বিরুদ্ধে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই স্কুলের ছাত্ররা যখন দেয়ালে গ্রাফিতি এঁকেছিল – ‘ইজাক আদ্‌-দোর ইয়া দোক্তোর’, তথা, ‘এবার তোমার পালা, ডাক্তার’, তখন নাজিবের বাহিনী তাদেরকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল, এবং অবর্ণনীয় টর্চার করেছিল।

নাজিবের বাহিনীর হাতে বন্দী স্কুলছাত্রদের দিনের পর দিন টায়ারের সঙ্গে ঝুলিয়ে নির্মমভাবে পেটানো হয়েছিল, কয়েকজনের নখ তুলে ফেলা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ওই সময় আটক ১৫ বছর বয়সী হামজা খাতিবকে টর্চার করে মেরেই ফেলা হয়েছিল।

নাজিবের বিরুদ্ধে প্রচলিত একটা অভিযোগ হচ্ছে, আটক হওয়া ছেলেদের বাবারা যখন সন্তানদেরকে ছাড়ানোর জন্য নাজিবকে অনুরোধ করতে গিয়েছিলেন, উত্তরে তিনি তাদেরকে বলেছিলেন, ‘ওদের কথা ভুলে যাও। বাসায় গিয়ে নতুন সন্তান পয়দা করো। আর সেটা না পারলে তোমাদের স্ত্রীদেরকে আমার কাছে পাঠিয়ে দাও।

তার এই বক্তব্য দেরাবাসীকে প্রচণ্ড ক্ষেপিয়ে তোলে। সেই শুক্রবারেই তারা বিশাল মিছিল বের করে। ওই মিছিলে নাজিবের বাহিনী গুলি চালালে যে পাল্টাপাল্টি সহিংসতা শুরু হয়, সেটাই শেষ পর্যন্ত সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়।

দেরার এই প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আতিফ নাজিব নিজেকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে মনে করতেন। এমনও অভিযোগ আছে, নিজের ক্ষমতা প্রকাশ করতে গিয়ে দম্ভোক্তি করে বলেছিলেন, ‘দেরাতে আমিই হচ্ছি ইশ্বর। আমার কথার বাইরে এখানে কিছু ঘটবে না।’

দেরার সেই স্বঘোষিত ভুয়া ইশ্বরকে অবশেষে আদালতে তোলা হয়েছে। দেরা থেকে বাসে করে ভুক্তভোগীরা দামেস্কে এসেছে তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে। বিচারকার্য ছিল পাবলিক এবং মিডিয়ার জন্য উন্মুক্ত। সম্পুর্ণ শুনানির দৃশ্য সিরিয়ার জাতীয় টিভিতে প্রচার করা হয়েছে।

সার্বিক অবস্থা ঠিক থাকলে নিশ্চিতভাবেই ধরে নেওয়া যায়, আদালতের রায়ে তার মৃত্যুদণ্ডই হবে এবং একই মামলায় যেহেতু বাশার আল আসাদসহ অন্যান্যদেরও আসামী করা হয়েছে, তাই এই মামলা থেকেই হয়তো চক্ষু চিকিৎসক বাশারের বিরুদ্ধেও রায় আসবে।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নতুন ঠিকানা - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪