মো. খায়রুল আলম খান : ইরান ও মার্কিন ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে শত্রুপক্ষের সামরিক হামলার প্রস্তুতির জন্য কাজ করা বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দল শনাক্ত করে ভেঙে দিয়ে তাদের অনেকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। মুলত এই অভিযান যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু হওয়ার আগে রেজিম পরিবর্তন চেষ্টার আন্দোলনের সময় থেকেই চলমান রয়েছে।
ইসলামী বিপ্লবের রেভুলোশনারি গার্ড কর্পসের ইন্টেলেজেন্সি উইং ঘোষণা করেছে যে, কুর্দিস্তান ও কেরমানশাহ প্রদেশে একাধিক অভিযানের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর সাথে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি টিমকে যাদের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নিস্ট শাসন সমর্থন দিচ্ছিল তাদের শনাক্ত ও ধ্বংস করা হয়েছে, দেশের পশ্চিম দিক থেকে সম্ভাব্য শত্রু সামরিক হামলার ভিত্তি তৈরির চেষ্টা করছিলো।
এর মাঝে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর কয়েকটি সেল ভেঙে দেয়া, অভিযানের পর ১১ জন গ্রেফতার, ১ জন নিহত, এবং ৮টি আর পি জি ও দুই হাজারেরও অধিক রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়।
এছাড়া একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ঘাঁটি শনাক্ত করে গোয়েন্দা হামলা পরিচালনা করা হয়, সেখান থেকেও জব্দ করা হয় ৯০টি বোম ডেটোনেটর, ১৮টি গ্রেনেড, ৫টি মর্টার শেল, ১,২৫৩ রাউন্ড গুলি, ৬টি রাইফেল গ্রেনেড ও হাই ফ্রিকোয়েন্সী রেডিও যোগাযোগ মাধ্যমের যন্ত্র। অভ্যন্তরীণ সংঘাত তৈরির চেষ্টারত এই দলটির সঙ্গে যুক্ত ৭৩ জনকেও এ সময় গ্রেফতার করা হয়।
আরেকটি অভিযানে অস্ত্র চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রকেও ধ্বংস করা হয়। সেখান থেকে জব্দ করা হয় ১০টি কালাশনিকভ, ২,২৫০ রাউন্ড গুলি, ২টি শিকারি রাইফেল, ৭টি আর পি জি, ৯০টি বোম ডেটোনেটর এবং স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ডিভাইস।
কেরামানশাহের অভিযানে এখন পর্যন্ত মোট ১৫৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যার মধ্যে অবৈধ অস্ত্র পাচারের সঙ্গে জড়িত ১৪৪ জন, জব্দ ১৭টি অস্ত্র ও ১,২০০ রাউন্ড গুলি। মোসাদের সাথে যুক্ত ৪ জন গুপ্তচরকেও গ্রেফতার করা হয়। এদের মাঝে ৭ জন বিচ্ছিন্নতাবাদী উগ্রবাদীকে গ্রেফতার করা হয়, যারা সরকারি ও সামরিক স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা করছিলো।
এছাড়া আলাদাভাবে পাঁচটি প্রদেশে অভিযান চালিয়ে এক সিনিয়র জায়নিস্ট গুপ্তচর ও ১৫ জন বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এদিকে, ইলাম প্রদেশে অমিদা কোডনামের একজন গুপ্তচর গ্রেফতার হয়েছে যে শত্রুপক্ষকে সংবেদনশীল তথ্য পাঠাতেন। সিস্তান ও বালুচিস্তান প্রদেশে দাভোদ নামে এক সন্ত্রাসী সদস্যকে জাহেদান শহরের কাছে হামলার আগে গ্রেফতার করা হয়।
গিলান প্রদেশে মাহেয়ার এর নেতৃত্বে ৩ সদস্যের আরেকটি সন্ত্রাসী দলকে মর্টার লঞ্চারসহ গ্রেফতার করা হয়।
এছাড়া লোরেস্তান প্রদেশে ২ সদস্যের মোসাদ এজেন্ট এবং পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশে ৯ জন বিচ্ছিন্নতাবাদীকে আলাদাভাবে গ্রেফতার করা হয়।
খায়রুল/ হাফিজ/ আয়না নিউজ