ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠি বাসস্ট্যান্ড এখন যেন যাত্রী ভোগান্তির আরেক নাম। জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই বাস টার্মিনালটি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা, ভাঙাচোরা রাস্তা ও ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধার অভাবে দুর্ভোগের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন শত শত যাত্রী এখান থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করলেও আধুনিক কোনো সুবিধা না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাসস্ট্যান্ডের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। সাময়িক সংস্কারের নামে কোথাও ভাঙা ইট ও খোয়া ফেলা হলেও ধুলাবালুর কারণে যাত্রী ও পথচারীদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকায় পানি জমে থাকে। কোথাও কাদা, কোথাও পিচ্ছিল রাস্তা—ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন যাত্রীদের বাসে ওঠানামা করতে হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন নারী, শিশু ও প্রবীণ যাত্রীরা। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও নেই মানসম্মত কোনো যাত্রী ছাউনি। বৃষ্টি হলে ভিজতে হয়, আর প্রচণ্ড রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় খোলা আকাশের নিচে। বাসস্ট্যান্ডে থাকা পুরোনো ওয়াশরুমগুলোও বর্তমানে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
যাত্রী নাজমা বেগম বলেন, বাসে উঠতে-নামতে গেলে পা রাখার জায়গা নেই। কাদা আর পানি পেরিয়ে কোনোভাবে উঠতে হয়। মাথার ওপর ছাউনি নেই। বৃষ্টি হলে ভিজতে হয়, রোদ হলে পুড়তে হয়। মহিলা ও শিশুদের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত কষ্টকর।
শুধু যাত্রীরাই নন, ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাস কাউন্টার পরিচালকরাও। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমস্যাগুলোর কথা জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
বাস মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি টিপু সুলতান বলেন, প্রতিদিন অসংখ্য বাস এখান থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলাচল করে। কিন্তু এই স্ট্যান্ডে যাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই। ভাঙা রাস্তা, টয়লেট সংকটসহ নানা সমস্যার কারণে অনেক যাত্রী বরিশালের রূপাতলী বা নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে যাতায়াত করতে বাধ্য হন।
তিনি আরও বলেন, জেলা সদরবাসীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই বাসস্ট্যান্ড দ্রুত সংস্কার করা না হলে যাত্রীসেবা আরও ব্যাহত হবে। তাই আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ একটি আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
জেলার প্রধান বাস টার্মিনাল হয়েও ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ঝালকাঠি বাসস্ট্যান্ড। এখন দেখার বিষয়, যাত্রীদের দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ লাঘবে কবে কার্যকর উদ্যোগ নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
গিয়াস/ হাফিজ/ আয়না নিউজ