সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি ধারা অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি আগামী ৫ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি করেছেন আপিল বিভাগ। বুধবার প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ শুনানির জন্য আগামী ৫ মার্চ ধার্য করেছেন।
আদালতে রিটের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ড. শরীফ ভূঁইয়া। ইন্টারভেনর হিসেবে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, ব্যারিস্টার এস এম শাহরিয়ার কবির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
গত ১৩ নভেম্বর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেন আপিল বিভাগ। এর আগে ৩ নভেম্বর রিটকারী সংগঠন সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে ড. শরীফ ভূঁইয়া ‘লিভ টু আপিল’ দায়ের করেন। আপিলে পঞ্চদশ সংশোধনী পুরো বাতিলের আবেদন জানানো হয়।
২০২৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল–সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি ধারা অবৈধ ঘোষণা করেন। রায়ে আদালত বলেন—
তত্ত্বাবধায়ক সরকার জনগণের অভিপ্রায়ের প্রতিফলন এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ।
দলীয় সরকারের অধীনে টানা তিনটি জাতীয় নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেনি, ফলে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পঞ্চদশ সংশোধনীর ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ, এবং সংবিধানে যুক্ত ৭ক, ৭খ ও ৪৪(২) অনুচ্ছেদ বাতিল ঘোষণা করা হয়।
গণভোটের বিধান বাতিল করা সংশোধনীর ৪৭ ধারাও অগ্রহণযোগ্য ঘোষণা করে দ্বাদশ সংশোধনীর ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হয়।
তবে সম্পূর্ণ সংশোধনী বাতিল করেনি আদালত। জাতির পিতার স্বীকৃতি, ২৬ মার্চের ভাষণসহ অন্যান্য বিধান সংসদ ভবিষ্যতে জনগণের মতামত নিয়ে সংশোধন করতে পারবে বলে উল্লেখ করা হয়।
২০২৩ সালের ৫ ডিসেম্বর এ বিষয়ে রুলের রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল। এর আগে ১৯ আগস্ট হাইকোর্ট কেন পঞ্চদশ সংশোধনী অবৈধ হবে না তা জানতে রুল জারি করেন। পরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার, ইনসানিয়াত বিপ্লব, গণফোরামসহ আরও কয়েকজন ইন্টারভেনর হিসেবে পক্ষভুক্ত হন।