রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মা ও মেয়েকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার মূল আসামি গৃহকর্মী আয়েশা আক্তার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আয়েশার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক সহিদুল ওসমান মাসুম আদালতে আয়েশাকে হাজির করেন। প্রসিকিউশন পুলিশের উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান জানান, স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গত ১০ ডিসেম্বর ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় আয়েশা এবং তার স্বামী রাব্বিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন আয়েশার ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়, আর তার স্বামী রাব্বির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। তিন দিনের রিমান্ড শেষে রাব্বিও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেছেন নিহত লায়লা ফিরোজের স্বামী আ জ ম আজিজুল ইসলাম। এজাহারে বলা হয়েছে, আয়েশা ৫ ডিসেম্বর থেকে খণ্ডকালীন গৃহকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন। ৮ ডিসেম্বর সকালে তিনি কর্মস্থলে যান। দুপুরে বাড়িতে ফেরার সময় স্বামী আজিজুল ইসলাম দেখতে পান— তার স্ত্রী এবং মেয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে আছে। মেয়েকে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বাসার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, আয়েশা সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে বাসায় প্রবেশ করেন এবং ৯টা ৩৫ মিনিটে মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে বের হন। এই সময়ের মধ্যে স্ত্রী ও মেয়েকে ছুরি বা অন্য ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
এভাবে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং তদন্তের পর পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হচ্ছে। পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থাগুলি মামলাটির সব দিক খতিয়ে দেখছে।