আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ ভালো আছে, সবার সহযোগিতায় আমরা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারব বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রবেশের সময় আপিল গ্রহণের জন্য স্থাপিত বুথ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। সিইসি বলেন, সবার সহযোগিতা থাকলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে উপহার দেওয়া সম্ভব। বর্তমানে নির্বাচন ঘিরে সামগ্রিক পরিবেশ ও পরিস্থিতি সন্তোষজনক রয়েছে।
এদিকে, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আজ থেকে নির্বাচন কমিশনে আপিল আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে এসব আপিল আবেদনের ওপর পর্যায়ক্রমে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে, যা চলবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক মনোনয়নপত্র বাতিল বা গ্রহণের সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ প্রার্থী, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের কাছে আপিল করতে পারবেন। আপিল আবেদনের জন্য এক সেট মূল কাগজপত্র এবং ছয় সেট ছায়ালিপি (ফটোকপি) মেমোরেন্ডাম আকারে জমা দিতে হবে।
আপিল গ্রহণের সুবিধার্থে সারাদেশকে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করে নির্বাচন কমিশনে পৃথক বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রংপুর অঞ্চলের জন্য বুথ-১ (আসন ১-৩৩), রাজশাহী অঞ্চলের জন্য বুথ-২ (আসন ৩৪-৭২), খুলনা অঞ্চলের জন্য বুথ-৩ (আসন ৭৩-১০৮), বরিশাল অঞ্চলের জন্য বুথ-৪ (আসন ১০৯-১২৯), ময়মনসিংহ অঞ্চলের জন্য বুথ-৫ (আসন ১৩০-১৬৭), ঢাকা অঞ্চলের জন্য বুথ-৬ (আসন ১৬৮-২০৮), ফরিদপুর অঞ্চলের জন্য বুথ-৭ (আসন ২০৯-২২৩), সিলেট অঞ্চলের জন্য বুথ-৮ (আসন ২২৪-২৪২), কুমিল্লা অঞ্চলের জন্য বুথ-৯ (আসন ২৪৩-২৭৭) এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের জন্য বুথ-১০ (আসন ২৭৮-৩০০) নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে নির্ধারিত সিরিয়াল অনুযায়ী আপিল শুনানি শুরু হবে। শুনানির সময় সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার বা তার প্রতিনিধি এবং আপিলকারীকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ উপস্থিত থাকতে হবে। পরিস্থিতি ও আপিলের সংখ্যা বিবেচনায় প্রয়োজনে শুনানির সময়সূচি পরিবর্তন হতে পারে বলে জানিয়েছে ইসি।
শুনানি শেষে আপিলের ফলাফল তাৎক্ষণিকভাবে মনিটরে প্রদর্শন করা হবে এবং ই-মেইলের মাধ্যমে পিডিএফ কপি পাঠানো হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী নির্বাচন ভবন থেকে রায়ের হার্ডকপি সংগ্রহ করা যাবে। ১০-১২ জানুয়ারির রায় ১২ জানুয়ারি, ১৩-১৫ জানুয়ারির রায় ১৫ জানুয়ারি এবং ১৬-১৮ জানুয়ারির রায় ১৮ জানুয়ারি বিতরণ করা হবে।