শতাধিক গুম ও খুনের ঘটনার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ তিন সদস্যের প্যানেল তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন প্যানেলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
ট্রাইব্যুনালে প্রথমে জিয়াউলের আইনজীবীদের অব্যাহতি প্রার্থনা খারিজ করা হয়। এরপর তিনটি অভিযোগ পড়া হয়, যার পর ট্রাইব্যুনাল জিজ্ঞাসা করে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করবেন কি না। জিয়াউল দাঁড়িয়ে বলেন, “নট গিল্টি।” এর পর বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয় এবং সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়।
প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম ও শাইখ মাহদী। আসামিপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী ও নাজনীন নাহার।
মামলায় প্রথম অভিযোগে ২০১১ সালের ১১ জুলাই গাজীপুরে সজলসহ তিন জনকে হত্যা করার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে ২০১০–২০১৩ সালের মধ্যে বরগুনার চরদুয়ানী খালঘেঁষা বলেশ্বর নদী এলাকায় ৫০ জনের হত্যার কথা বলা হয়েছে। তৃতীয় অভিযোগে বরগুনা ও বাগেরহাটের সুন্দরবন অঞ্চলে ৫০ জনকে হত্যা করার অভিযোগ রয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল-১ গত ২৩ ডিসেম্বর জিয়াউলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। ১৭ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আমলে নেওয়া হয় এবং একই দিন ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়।