মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আজ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এ এই শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে প্রথমে প্রসিকিউশন এবং পরে আসামিপক্ষ তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করবে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে শুনানি হবে। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। ট্রাইব্যুনালের কার্যতালিকা অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের প্রশ্নে আজকের শুনানিকে মামলার পরবর্তী ধাপ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মামলার সাত আসামির কেউই বর্তমানে গ্রেপ্তার নেই। তারা সবাই পলাতক থাকায় আদালতের নির্দেশে তাদের পক্ষে সরকারি খরচে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৮ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। আদালত সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য শোনার পর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের যুক্তি তুলে ধরবেন।
এর আগে একই মামলায় আসামিদের আত্মসমর্পণের জন্য নির্দিষ্ট দিন ধার্য করা হলেও তারা কেউই হাজির হননি। পরোয়ানা জারির পর ২৯ ডিসেম্বর আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা তাদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালালেও স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় কাউকে পাওয়া যায়নি বলে আদালতকে জানানো হয়। পরে ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে পলাতক আসামিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়। তাতেও সাড়া না মেলায় মামলার কার্যক্রম প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ায় এগিয়ে নেওয়া হয়।
ওবায়দুল কাদের ছাড়াও মামলার অপর আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। অভিযোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে নির্দেশ দেওয়া, প্ররোচনা ও উসকানির ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ১৮ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলাটির অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়। একই দিন প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিকভাবে ফরমাল চার্জ দাখিল করে। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, চব্বিশের জুলাই–আগস্টে সংঘটিত সহিংসতায় বহু মানুষ নিহত হন, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আজকের শুনানি শেষে অভিযোগ গঠনের সিদ্ধান্ত হলে মামলাটি বিচারিক পর্যায়ে প্রবেশ করবে। আসামিরা পলাতক থাকলেও আইন অনুযায়ী বিচার কার্যক্রম চালানো সম্ভব। ফলে মামলাটি দেশের রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে উল্লেখযোগ্য গুরুত্ব পাচ্ছে।